Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক গতি অব্যাহত রেখে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাপানের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র নিকি এশিয়ান রিভিউকে দেওয়া এক ‘এক্সক্লুসিভ’ সাক্ষাৎকারে নিজের এই লক্ষ্যের কথা জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।


Hostens.com - A home for your website

টানা ১০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনরায় জয়ের আশা করছেন।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ; তা এখন বেড়ে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম অংশীদার জাপানের সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্জন হবে।

“যদি পুনর্নির্বাচিত হই, আমি আপনাদের বলতে চাই যে আমরা যে সব কর্মসূচি নেব, তাতে ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।”

শেখ হাসিনা সরকার আমলেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় এক হাজার ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণ বেড়েছে।

এই ১০ বছরে বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তোলার দাবি করে আসা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, ভোটে জনগণ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবে।
শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে।

অর্থনীতির গতি বাড়ানোর চেষ্টার উদাহরণ হিসেবে সারা বাংলাদেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা জাপানি সংবাদপত্রটির কাছে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা, যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে আগামী বছর দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পাবনার রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, সেখানে দুটি ইউনিটে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট, যার অর্ধেকের বেশি আসে তেল ও গ্যাস থেকে। গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্য উৎসের দিকে নজর এখন বাংলাদেশের।

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জমি খোঁজার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

চীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
প্রভাবশালী সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যাদের প্রস্তাব দেশের জন্য ভালো হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে।
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার দেশের মানুষ আমার উপর ভরসা রেখেছে। যখন আমি তাদের (রোহিঙ্গা) দুর্দশার কথা তুলে ধরে আমার দেশের মানুষকে বলেছি যে প্রয়োজন হলে আমরা খাবার ভাগাভাগি করে খাব, দেশবাসী তা মেনে নিয়েছে।”

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা খুব সুন্দর একটার দ্বীপ। সেখানে তারা সুন্দর জীবন পাবে, শিশুগুলো পাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা।”

ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেখানে ১০ লাখ মানুষ এঁটে যাবে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাউকে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এই সঙ্কটের স্থায়ী অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়য়ের মনোযোগও আকর্ষণ করেন তিনি।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom