Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও জাতিসংঘ সনদের শর্ত মেনে সাজাপ্রাপ্তদের যুক্তরাজ্য ফেরত দিতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।


সেক্ষেত্রে একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে এখনই অনুরোধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে সপরিবারে থাকছেন।

চৌদ্দ বছর আগের ওই হামলার ঘটনায় বুধবার রায় ঘোষণার পর নিজের ফেইসবুক পাতায় এক স্ট্যাটাসে জয় বলেন, “আমাদের সরকারের উচিত এখনই তারেক রহমানের নামে আবার নতুন করে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা, এবার খুন ও সন্ত্রাসবাদের জন্য। তাকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করাও উচিত আমাদের।

“যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের কোন বহিঃসমর্পণ চুক্তি নেই। কিন্তু জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী অন্য কোন সদস্য দেশের অনুরোধে শাস্তিপ্রাপ্ত আসামীদের সমর্পণ করতে পারে। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি চারজন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে জেনেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে।”
গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জয় তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, “আজ ১৪ বছর পরে, আমার মা ও আইভি রহমানসহ আমার আরো অনেক কাছের মানুষদের হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার পেতে যাচ্ছি আমরা।”

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় আসামি ছিলেন ৫২ জন। এর মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদ, জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান ও বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় ৪৯ জনের রায় দেওয়া হয় বুধবার।
আসামিদের মধ্যে পলাতক আছেন ১৮ জন।

তারেক ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, কুমিল্লার মুরাদনগুরে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন আহমদ, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাইদ হাসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপ কমিশনার ওবায়দুর রহমান খান, মো. ইকবাল, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মোরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, জাহাঙ্গির আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবু।

এদের মধ্যে হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ ও জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তারেক রহমান ছাড়া আছেন হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মো. ইকবাল, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মোরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবু।

এছাড়া সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, এ টি এম আমিন আহমদ, খান সাইদ হাসান ও ওবায়দুর রহমান খানকে ২ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে তারেক ছাড়া অন্য পলাতকরা কে কোথায় আছেন তার কোনো স্পষ্ট তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই।

তারেক রহমান এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নামে রেড নোটিস আগে থাকলেও তা সরিয়ে নিয়েছে ইন্টারপোল। হারিছ চৌধুরী ও মাওলানা তাজউদ্দিনের ছবিসহ রেড নোটিস রয়েছে ইন্টারপোলে। রাতুলের নাম থাকলেও ছবি নেই।

তারেক রহমানের রেড নোটিস জারি হয় ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল, কায়কোবাদের একই বছরের ১২ নভেম্বর। তাজউদ্দিনের রেড নোটিস জারি হয় ২০০৮ সালের ৫ ফ্রেবুয়ারি, হারিছ চৌধুরীর ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর এবং রাতুলের নোটিস জারি হয় ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলাতকরা দেশের বাইরে রয়েছেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু কে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কিছু ধারণা থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
তবে তাজউদ্দিন সাউথ আফ্রিকা অথবা পাকিস্তানে, হারিছ চৌধুরী মালয়েশিয়া, আমেরিকা অথবা লন্ডনে ঘুরে ফিরে আর রাতুল সাউথ অফ্রিকায় থাকতে পারেন বলে এর আগে বলেছিলেন ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল আলম।
সাজাপ্রাপ্ত অন্য পলাতক আসামিদের মধ্যে কায়কোবাদ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে, হানিফ থাইল্যান্ড অথবা মালয়েশিয়ায়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এটিএম আমিন যুক্তরাষ্ট্রে ও সাইফুল জোয়ারদার কানাডায়, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান ও খান সাঈদ হাসান পাকিস্তান অথবা মালয়েশিয়ায়, জঙ্গি আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন ও মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে রয়েছেন বলে কর্মকর্তাদের ধারণা।

bottom