Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

প্রকৃতি এখন মাখামাখি কুয়াশা আর শিশিরে। বাচ্চাদের পরীক্ষাও প্রায় শেষ, সামনেই ইংরেজি নববর্ষ আর বড়দিনের ছুটি। ঘুরতে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে।তাই অনেকেই এখন দীর্ঘ কিংবা সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের দিনক্ষণ গুনছেন। তবে যেভাবেই ভ্রমণে বের হোন না কেন সে জন্য থাকা চাই পুরোপুরি প্রস্তুতি। তা না হলে ভ্রমণ আনন্দ পরিণতি হতে পারে নিরানন্দে।


ভ্রমণে যাওয়ার আগে

যেহেতু শীতে যাচ্ছেন, তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে জেনে নিন শীতকালে ভ্রমণের জন্য কোন জায়গাগুলো উপযোগী। কারণ শীতকালে সব জায়গা ভ্রমণের জন্য উপযোগী নয়।

যেমন- শীতকালে ঝর্ণা দেখতে গেলে ঝর্ণার বদলে শুধু পাহাড় দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তাই এই সিজনে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য কোন জায়গগুলো উপযোগী এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয় জানতে পত্রিকা, বই, ভ্রমণ গাইড পড়তে পারেন। দেশের বাইরে ভ্রমণে যেতে গাইডের সাহায্য নিন। চেষ্টা করুন নিজস্ব ভাষার গাইড খুঁজে পেতে।

প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর এবং যেখানে যাচ্ছেন সেখানে পরিচিত কেউ থাকলে তার ঠিকানা, ফোন নম্বর সঙ্গে রাখুন।

যুতসই ভ্রমণ ব্যাগ

ভ্রমণের জন্য নানারকম ব্যাগ রয়েছে। বেশি দিনের জন্য বেড়াতে গেলে ট্রাভেল ব্যাগের চেয়ে বড় ট্রলি ব্যাগ আরামদায়ক। অল্প দিনের জন্য গেলে নিতে পারেন কাঁধে ঝোলানো ট্রাভেল ব্যাগ কিংবা ব্যাগপ্যাক। শুধু কাঁধে নয়, এগুলো হাতেও ধরে নেয়া যায়। ছোট কেউ সঙ্গে থাকলে তার কাপড়চোপড় আলাদা ছোট ট্রলি ব্যাগে দিতে পারেন। এখন বাজারে নানা ডিজাইনের ছোটদের ট্রলি ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো শিশুরা নিজেরাই টেনে নিতে পারে।

ভ্রমণের পোশাক

নিজ দেশে ততটা শীত না, তাই শুধু পাতলা কাপড় নিয়ে শীতের দেশে ঘুরতে গেলেন কিংবা কষ্ট করে লাগেজ ভরে শীতের পোশাক নিলেন কিন্তু সেখানে কোনো ঠাণ্ডাই নেই! এমন ভুল নিশ্চয়ই কাক্সিক্ষত নয়।

তাই অন্য দেশে কিংবা জেলায় যাওয়ার আগে ট্যুর স্পটের তাপমাত্রা সম্পর্কে জেনে নিন।

বনজঙ্গলে যেতে পুরো শরীর ঢেকে থাকে এমন পোশাক পরুন, পোকামাকড়ের কামড়, কাঁটালতা থেকে রক্ষা পাবেন। পানিতে নামবেন এমন কোথাও ভ্রমণে গেলে এমন পোশাক পরুন যা পানিতে ভিজলে খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে আর রং উঠবে না।

থাকার ব্যবস্থা

সম্ভব হলে যাওয়ার আগেই হোটেল বুকিং দিন। কারণ শীতের সিজনে অনেক সময় হোটেল সংকটে পড়তে হয়। এ জন্য বিভিন্ন হোটেলের ওয়েবসাইটে অথবা ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন।

টুকিটাকি তবে জরুরি

ব্রাশ, পেস্ট, সাবান, শ্যাম্পু, রেজর-ফোম, আয়না, চিরুনি, লোশন ইত্যাদি টুকিটাকি, তবে জরুরি। তাই অবশ্যই ব্যাগপ্যাকের সময় এগুলো মনে করে ল্যাগেজে নিন।

খাবার-দাবারে সতর্কতা

ভ্রমণে রিচফুড বা পেটে সমস্যা হতে পারে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘসময় বিমানে থাকলে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই বিমানে খাবার নির্বাচনে সতর্ক হোন।

গ্যাজেট নিতে ভুলবেন না

সেলফোন, ক্যামেরা, চার্জার, এমপি থ্রি, ইয়ারফোন, ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, ল্যাপটপ নিলে তার চার্জার, টর্চ লাইট ইত্যাদি গেজেট নিতে ভুল হয় বেশি। তাই এসব জিনিস আগেই ব্যাগে ভরে রাখুন।

সঙ্গে রাখুন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র

শারীরিক সমস্যা বলে কয়ে আসে না। তাই ভ্রমণে নিয়মিত খাওয়ার ওষুধের পাশাপাশি জ্বর, মাথাব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়ার ওষুধ সঙ্গে রাখুন। ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, নিউমোনিয়ার সমস্যা আছে এমন কেউ ভ্রমণে সঙ্গে থাকলে ওষুধ, ইনহেলার সঙ্গে রাখুন। সম্ভব হলে ডায়াবেটিস এবং প্রেসার মাপার মেশিন সঙ্গে রাখুন।

আরামদায়ক জুতা

হাই হিলে যতই স্মার্ট দেখাক না কেন, ভ্রমণের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এ ক্ষেত্রে স্লিপার, কেডস, বুট সবেচেয়ে আরামদায়ক। ডায়াবেটিস রোগীরা ভ্রমণে অবশ্যই ডেডস পরুন।

রোদ সামলে

সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি সূর্যের তেজ অনেক বেশি থাকে। তাই সমুদসৈকতে গেলে সানস্ক্রিন লোশন, চওড়া ক্যাপ, সানগ্ল্যাস ব্যবহার করুন। লাগেজে অ্যালোভেরা লোশন রাখুন। রোদ থেকে ফিরে ত্বকে ব্যবহার করুন।

সুস্থ থাকুক শিশু

ঘুম ভালো না হলে শিশুরা জার্নিতে অসুস্থ বোধ করতে পারে। ভ্রমণের দু-চার দিন আগে থেকে শিশুরা ভ্রমণে যাওয়ার প্রস্তুতি

যাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারে সে সুুযোগ করে দিন। ভ্রমণে শিশুর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সারাক্ষণ শিশুকে সঙ্গে নিয়ে না ঘুরে বেড়িয়ে শিশু যাতে একটু আরাম করতে পারে সে দিকেও নজর দিন। বিমানে তরল পদার্থ বহনে বিধিনিষেধ থাকে, ঝামেলা এড়াতে শিশুর জন্য ২০০ মিলির চেয়ে কম পরিমাণের দুধ পৃথক পৃথক বোতলে বহন করতে পারেন। সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

যত্নে রাখুন

দেশের বাইরে গেলে সবচেয়ে যত্নে যা রাখা উচিত, তাহল পাসপোর্ট। কোনো কারণে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, যত দ্রুত সম্ভব নিজের দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন না হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ভিসা, ক্রেডিট কার্ডের ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।

bottom