Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

প্রচলিত অর্থে জাদুঘর বলতে বিভিন্ন শতাব্দী, কাল ও যুগের রাজ-রাজরার প্রমাণ্য বিবরণ সমৃদ্ধ সংগ্রহশালাকে বোঝায়। কিন্তু মেহনতি মানুষের রক্ত-ঘামে গড়ে উঠে যে ঐতিহ্য; তা থাকে নিতান্তই উপেক্ষিত।


Hostens.com - A home for your website

ঠাকুরগাঁয়ে অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহিদ-উজ-জামানের নিজ হাতে গড়া স্বপ্নফসল- ‘লোকায়ন’ প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ভেঙ্গে মেহনতি মানুষের যুগ-যুগান্তরের জীবনযুদ্ধ, এর উপকরণ, বৈচিত্র্য ও চেতনাকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত। লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের সন্নিকটে পূর্ব আকচা গ্রামে।
নদী গ্যালারি
নদী গ্যালারি ২০১৬ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো নদীর জল এ গ্যালরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। যেসব নদী হারিয়ে যাচ্ছে চিরতরে- সেগুলোর জলও রয়ে যাচ্ছে এ নদী গ্যালারিতে। তাছাড়া নদীভিত্তিক বিভিন্ন পেশা ও বৃত্তিনির্ভর উপকরণ, বাংলাদেশের নদ-নদীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও এ সংক্রান্ত তথ্য ছাড়াও নৌকা, নদীভিত্তিক উৎসব নৌকাবাইচ, ভাটিয়ালী গান, বন্যা, চর, জলজ উদ্ভিদ, মৎস্য, বর্ষা, পাখি ইত্যাদি নানা তথ্য এ গ্যালারিতে উপস্থাপিত হয়েছে।
সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী গ্যালারি
বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক-বহুমাত্রিক জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি। বৈচিত্র্যময় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চারণভূমি বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও জাতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের অভাব রয়েছে। ১৯৭৩ সালের আদমশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীদের আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি। ১৯৮৪ সালের আদমশুমারিতে ২৪টি উপজাতি এবং মোট জনসংখ্যা ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮২৮ জন বলা হয়েছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে ২৯টি উপজাতির ১২ লাখ ০৫ হাজার ৯৭৮ জনের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশে ২৭টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৪১ জন বলা হয়েছে।
সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, বিশেষত সাঁওতাল ও ওঁরাওদের জীবনযাপন, সংস্কৃতি, বাসস্থান, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, পেশা, উৎসব সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী গ্যালারিটি সজ্জিত করা হয়েছে।
তৃণমূল লোকজ গ্যালারি
প্রাচীনতম জনপদ উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশ। ঐতিহ্যপূর্ণ এ জনপদের নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষের জীবনযাপন, বিনোদন, উৎসব, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কাব্য আর লোকজ ঐতিহ্যের ধারক তৃণমূল লোকজ গ্যালারি। দর্শনার্থীদের জন্য এ গ্যালারিটি উন্মুক্ত করা হয় ২০০৬ সালে। তৃণমূল লোকজ গ্যালারিতে প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য উপকরণ হচ্ছে-
কৃষিজ উপকরণ : লাঙ্গল, মই, ফলা, দা, কাস্তে, হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি, কোদাল, কুঠার, নিড়ানি, ডুলি, ঢেঁকি, ছাম-গাহিন, কুলা, জলা, খুন্তি ইত্যাদি।
ভেষজ এবং সংস্কারযুক্ত চিকিৎসা উপকরণ : হামানদিস্তা, ওষুধ তৈরির পাথরের বাটি, তাবিজ, কবজ, মন্ত্রপড়া লাঠি, খাবনামা, ফালনামা ইত্যাদি।
সাংস্কৃতিক উপকরণ/বাদ্যযন্ত্র : ঢাক, ঢোল, কাড়া-নাকাড়া, মাদল, মৃদঙ্গ, আকড়াই, একতারা, দোতারা, বাঁশি, সানাই, মাউথঅর্গান ইত্যাদি।
বিভিন্ন কাল ও সময়ের মুদ্রা/কাগজি নোট : সুলতানি আমল, মোগল আমল, ইংরেজ আমল, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের মুদ্রা।
অলঙ্কার : মাটি, দস্তা, রূপা ইত্যাদির তৈরি বিভিন্ন কাল ও সময়ের অলঙ্কার।
ধর্মীয়/মাঙ্গলিক উপকরণ : জায়নামাজ, জলচৌকি, তসবি, রুদ্রাক্ষমালা, জপেরমালা, মঙ্গলপ্রদীপ, মঙ্গলসূত্র, কোরবানির ছুরি, বলির দা, লক্ষ্মীর পাঁচালি, পুঁথি ইত্যাদি।
ক্রীড়া/বিনোদন উপকরণ : লাটাই, ঘুড়ি, মার্বেল, গুলতি, ডাংগুলি, লুডু, ক্যারম, বাঘাডুলি, রেডিও, টেলিভিশন, ক্যাসেট প্লেয়ার, ভিসিআর, ভিসিডি ইত্যাদি।
গৃহস্থালি উপকরণ : দরজা, জানালা, সিন্দুক, মোড়া, পিড়া, চারপায়া, বাটি, ঘটি, পাদুকা/খড়ম, চেরাগ, কুপি, হ্যাজাক ইত্যাদি।
বৈবাহিক উপকরণ : বিবাহের পোশাক, কাবিননামা, টোপর, সিঁদুরের কৌটা, বিবাহের কবিতা, বিবাহের কার্ড, বিবাহের ট্রাংক, স্যুটকেস ইত্যাদি।
মৃৎ শিল্প : সানকি, চাঙড়, চাড়ি, বাসন-কোসন ইত্যাদি।
দলিল/চিঠিপত্র/নথিপত্র : দলিল, পুরনো পোস্টকার্ড, চিঠিপত্র, খাজনা আদায়ের রসিদ, সনদপত্র, পাট্টা, মৌজা ম্যাপ ইত্যাদি।
লোকশিল্প : নকশিকাঁথা, ওয়ালম্যাট, শিকা, বাঁশ/কাঠ/পাটের কাজ ইত্যাদি।
মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি
দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। অপরদিকে পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদরের নৃশংসতা, গণহত্যাও পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ইএসডিও’র উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘অপরাজেয় ৭১’ নির্মিত হয়েছে ২০১২ সালে। সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীদের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতির নিদর্শন হিসেবে ইএসডিও প্রধান কার্যালয়ে ভাস্কর্য ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ নির্মিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ আলীর সমাধির নান্দনিক পুনঃনির্মাণ করেছে ইএসডিও।
এরই ধারাবাহিকতায় লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি। এখানে প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ; ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্ব; ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্ব এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস’ পর্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চিহ্ন উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস’ পর্বে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সব স্বীকৃত বধ্যভূমির মাটি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, এ অঞ্চলের রণাঙ্গনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারক সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি গ্যালারি’র দো’তলায় একটি আধুনিক মিলনায়তন, মুক্তমঞ্চ ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্যসমৃদ্ধ অডিও-ভিজ্যুয়াল লাইব্রেরি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র এবং তথ্যচিত্র নিয়মিত প্রদর্শনের মাধ্যমে, বিশেষত নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে।
কিভাবে পৌঁছাবেন
ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের উত্তরে বিএডিসি খামার থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে পূর্ব আক্চা গ্রামে লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর অবস্থিত।
জাদুঘর পরিদর্শনের সময়সূচি
সোমবার থেকে শনিবার : সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। রোববার জাদুঘর বন্ধ থাকে।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom