Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী দলগুলোর নতুন জোট গঠনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা বলেন তিনি।


Hostens.com - A home for your website

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে নতুন নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা বলেন, “যে কোনোভাবে হোক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে পিছপা হই না, রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করি।”

সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা চলার মধ্যেই সংসদে একথা বলেন তিনি।

নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েকমাস বাকি থাকতে আন্দোলন জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছে বিএনপি; এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগে থাকা মাহমুদুর রহমান মান্নার দল নাগরিক ঐক্য এবং শেখ হাসিনার ১৯৯৬ সালের সরকারের মন্ত্রী আ স ম রবের দল জেএসডিও রয়েছে এই জোটে।

শেখ হাসিনা বলেন, “রাজনৈতিকভাবে যারা জোট করেছে, তাদেরকে স্বাগত জানাই। কারণ, রাজনীতি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। আজকে রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দল জোট করে নির্বাচনে আসবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এতে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা আরও মজবুত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন হলেও আসছে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, অর্থাৎ ভোটের সময় শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবে, সংসদও থাকবে বহাল।

আদালতে দণ্ডিত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দলের সঙ্গে জোট বেঁধে কামাল হোসেনরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছেন বলেও দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় থাকা সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে নিয়েও আওয়ামী লীগ নেতারা সমালোচনামুখর সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে তার কটূক্তি করা নিয়ে।

যারা জোট করে ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রীকে।

শেখ হাসিনা উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, “যারা এখানে যুক্ত হয়েছে, তাদের যে কথাবার্তা যা কিছু মানুষ জানতে পারছে, তাতে এরা কেউ কেউ তো মানুষকে সম্মান রেখেও কথা বলতে পারছে না। নারীবিদ্বেষী মনোভাব, মেয়েদের প্রতি অশালীন কথা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই তাদের থেকে শুনতে পারছি।”

ঐক্যজোটের নেতাদের কাছে সংযত আচরণ প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, “জনগণের জন্য কাজ করতে গেলে যে সহনশীলতা দরকার, ত্যাগ দরকার- তা তাদের মাঝে নেই। আশা করি, এদেশে সত্যিই রাজনৈতিক একটা জোট করে যদি এগিয়ে যেতে চায়, তাদেরকে সেইভাবে চলতে হবে।

“তবে কেউ অশালীন উক্তি করলে মানুষ যদি বিচার চায়, তার বিচার করাটা রাষ্ট্রের কর্তব্য; রাষ্ট্র তা করবে এবং করে যাচ্ছে।”

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের আরেকবার দেশের সেবা করার সুযোগ দিন। যেন ক্ষমতায় এসে অন্যায়-অবিচার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক দূর করে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা দেওয়ার সুযোগ পাই।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

“তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সাথে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। আল্লাহ যদি চান আগামী নির্বাচনে আমরা আবার যদি ফিরে আসতে পারি, এর মাঝে অবশ্যই আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব, শাস্তি দিতে পারব। এই বিশ্বাস আমার আছে।”

তিনি বলেন, “শাস্তি যখন পেয়েছে, যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন আল্লাহর ওপরে আমার বিশ্বাস আছে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর বিশ্বাস আছে- নিশ্চয়ই একটা দিন আসবে যে যারা এতবড় জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে রণক্ষেত্রের ব্যবহৃত গ্রেনেড রাজপথে ব্যবহার করে এভাবে হত্যা করেছে। আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তাদের বিচার যখন হয়েছে, রায় যখন হয়েছে। একদিন সাজা পেতেই হবে। সাজা তাকে ভোগ করতে হবে।”

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom