Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

ভোট কেন্দ্রে নাশকতার শঙ্কায় আজ থেকে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি। আগামীকাল ভোট গণনা পর্যন্ত তারা কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। ভোটপরবর্তী বিশৃঙ্খলা প্রতিহতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়ক হিসেবেও কাজ করবেন তারা। পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের সাহস দেয়া ও সতর্ক করার পাশাপাশি গুজব-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে কমিটিগুলো।


জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কাজে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে জ্বালাও-পোড়াও করেছে বিএনপি-জামায়াত। মানুষ হত্যা করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে। এজন্য আমরা ভোটারদের সুরক্ষা ও বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও গুজব প্রতিরোধে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করেছি।

আওয়ামী লীগের পাশাপাশি দলের সহযোগী সংগঠনগুলোও তাদের মতো করে কমিটি করেছে। এসব কমিটির মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করা, ভোট কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করা এবং দলীয় পোলিং এজেন্ট মনিটরিংয়ের কাজটিও করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতাও করবে।

জানা যায়- আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ আলাদাভাবে দেশের ৪০ হাজার ১৮৩ ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে কমিটি গঠন করেছে। সবমিলিয়ে কমিটির সংখ্যা লাখের উপরে। প্রতি টিমে ৩০ থেকে শতাধিক সদস্য সক্রিয় আছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগও নিজেদের মতো করে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে কমিটি গঠন করে কাজ করছে।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টিমগুলো নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার কাজও করেছে। অক্টোবরেই এ কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। ধানমণ্ডির-৩/এ থেকে নির্বাচন পরিচালনা (নতুন বিল্ডিং) কার্যালয় থেকে কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও এখনও কেউ ভোলেনি। সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এড়াতে এবার দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, যাতে একটি মানুষও আর সীমাহীন কষ্টের শিকার না হন।

জানা যায়, আজ থেকে এসব কমিটি নাশকতা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ শুরু করবে, টহল দেবে পাড়া-মহল্লায়। অপরিচিত, সন্দেহভাজন লোকজন চিহ্নিত করে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করবে।

আ’লীগ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে কমিটি করে তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটির তালিকা হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণের ৮টি নির্বাচনী আসনের ৫২৯টি ভোট কেন্দ্রে আমরা কমিটি গঠন করেছি। এসব কমিটি ইতিমধ্যে প্রতিটি ভোটারের কাছে তাদের ‘ভোটার স্লিপ’ নাম্বার পৌঁছে দিয়েছে। কাল থেকে এসব কমিটি পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নেবে। এলাকায় কেউ যাতে কোনো গুজব ছড়াতে না পারে, ভোটারদের হুমকি ও তাদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিতে না পারে সে কাজটিও করবে কমিটি। ভোটের দিন সকাল থেকে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবে। ভোটের দিন কেউ নৈরাজ্য করে ভোটের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহতের কাজও করবে এসব কমিটি।

যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলও কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির তালিকা জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন যুগান্তরকে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রভিত্তিক ৯০০ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরা ৫২৫টি কেন্দ্র পাহারা দেয়া ছাড়াও ভোটারদের উৎসাহিত করে কেন্দ্রে আনার কাজেও নিয়োজিত থাকবে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কমিটিগুলো সজাগ থাকবে। কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্টের দায়িত্বও পালন করবেন কমিটির অনেকে।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী যুগান্তরকে বলেন, আমরা সারা দেশে প্রতি ভোট কেন্দ্রে ২৫ থেকে ৩০ সদস্যকে নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। এরা কেন্দ্র পাহারা দেবে, ভোটের পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করবে। কেউ সহিংসতার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করবে।

এর বাইরে ১৪ দলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ, চোরাগোপ্তা হামলা ও জ্বালাও-পোড়াও ঠেকাতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কাজ করবে।

কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ৩ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে পাঠানো হয়। চিঠিতে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনমত গঠন, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক তৃণমূল থেকে ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।

 

bottom