Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে উইমেনস মার্চের ভুয়া তারিখ ও স্থান উল্লেখ করে খোলা দেড় হাজারের বেশি ইভেন্ট পেইজ চিহ্নিত করে বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারণামূলক এসব ইভেন্ট পেইজের বেশিরভাগ চালানো হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে, মূল উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকানদের রাজনৈতিক আবেগ কাজে লাগিয়ে টি শার্ট বিক্রি করা।


৪০ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ২০১৭ সালে আয়োজিত প্রথম উইমেনস মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে আছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেও আরেকটি উইমেনস মার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।

আয়োজকরা এখনও এই কর্মসূচির স্থান বা তারিখ চূড়ান্ত না করলেও ফেইসবুকে হাজার হাজার ইভেন্ট পেইজ তৈরি হয়েছে, যেখানে ভুয়া স্থান আর তারিখ দিয়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

সিএনএন জানিয়েছে, ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এরকম ১৭০০ ইভেন্ট পেইজ চিহ্নিত করেছে। সেগুলো এমনভাবে সাজানো, যেন দেখলে মনে হয় উইমেনস মার্চের আয়োজকরাই সেগুলো বানিয়েছে।

ব্যবহারকারীরা যে তাতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন, এ সব পেইজে মানুষের সাড়া দেখলেই তা বোঝা যায়। কোনো কোনো পেইজে ১০ হাজার, কোনোটিতে ২০ হাজার মানুষ উইমেনস মার্চে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরের শুরুতে এরকম ভুয়া ইভেন্ট পেইজগুলো ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দিলেও সঙ্গে সঙ্গেই খোলা হচ্ছে নতুন পেইজ।

নর্থ ক্যারোলাইনায় এরকম একটি ইভেন্ট পেইজ দেখে সন্দেহ হওয়ায় গত অগাস্টে রুবি সিনরিখ নামের এক অধিকারকর্মী খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পান, সেখানে দেওয়া ইভেন্টের তারিখটিই ভুয়া।

এরপর নিজের বন্ধুদের সতর্ক করে তিনি ফেইসবুকে এক পোস্টে লেখেন-রাশিয়া আর রিপাবলিকানরা কীভাবে আমেরিকানদের যোগাযোগ, রাজনীতি আর নির্বাচকে নিজেদের স্বার্থে অবৈধভাবে ব্যবহার করছে- এটা তার একটা নমুনা।

সিএনএন বলছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং তার পরের দিনগুলোতে সোশাল মিডিয়ায় সন্দেহজনক প্রচারের সঙ্গে রাশিয়ার যোগযোগের জোর আলোচনা থাকলেও উইমেনস মার্চের ভুয়া ইভেন্ট পেইজগুলোর পেছনে রাশিয়ার হাত নেই,সেগুলো চালানো হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে।

বেনামে বা ভুয়া তথ্য দিয়ে ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলার সুযোগ থাকায় অসংখ্য পেইজ যুক্তরাষ্ট্রে খোলা হয়েছে, যেগুলোর উদ্দেশ্য মূলত রাজনৈতিক।

“তবে বাংলাদেশ থেকে যারা ইভেন্ট পেইজগুলো চালাচ্ছে তাদের উদ্দশ্য অর্থনৈতিক বলেই মনে হয়। আদর্শের সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ না থাকলেও ঠিক একই কৌশল তারা ব্যবহার করছে।”

অ্যান্ডি স্টোন নামে ফেইসবুকের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে সিএএন লিখেছে, “যাদের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় বলে মানুষ মনে করে, তাদের সঙ্গেই তারা ফেইসবুকে যোগাযোগ করে। এ কারণে উইমেনস মার্চ নিয়ে ভুয়া পেইজ ও ইভেন্টগুলো আমরা সরিয়ে দিয়েছি।

“যারা উইমেনস মার্চ নিয়ে আগ্রহী, তাদের কাছে ওই কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট উপকরণ বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশায় এসব পেইজ ও ইভেন্ট খোলা হয়েছে বলেই আমাদের মনে হয়েছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে এবং যারা এসব পেইজ বানাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের শোরেনস্টেইন সেন্টারের গবেষক বেঞ্জামিন ডেকার সিএনএনকে বলেন, উইমেনস মার্চ নিয়ে বানোয়াট পেইজগুলো ওই আয়োজনের ছবি, লোগো, আগে থেকে চালু হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছে শহর, উপশহর আর গ্রামের মানুষকে আকৃষ্ট করতে।

আর এ ধরনের ভুয়া প্রচারের কারণে মূল কর্মসূচির আয়োজক ও আন্দোলনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন রুবি সিনরিখ।

তিনি বলেন, ভুয়া ইভেন্টের ফাঁদে যারা পড়ছেন, তারা আসল কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না। এক দিকে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, অন্যদিকে ঐক্যের বদলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সিএনএন লিখেছে, তাদের অনুসন্ধানে বেশ কিছু ভুয়া ইভেন্ট পেইজের সঙ্গে ভাইরালস্টাইল ও টিস্প্রিংয়ের মত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পেইজের যোগাযোগ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে কেউ টি শার্ট ডিজাইন ও বিক্রি করতে পারেন নিজেরা উৎপাদনের ঝামেলায় না গিয়েও।

তবে অনেক পেইজ রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে এরকম কোনো ই-কমার্স সাইটের সম্পর্ক পায়নি সিএনএন। তবে এসব পেইজও আর্থিক লাভের জন্য খোলা হয়েছে বলে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের ধারণা।

লিংকডইনে কয়েকশ প্রোফাইল সিএনএন খুঁজে পেয়েছে, যারা বাংলাদেশে বসবাসের তথ্য দিয়েছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক ব্র্যান্ড টিস্প্রিং ও ফ্লোরিডা-ভিত্তিক ব্র্যান্ড ভাইরালস্টাইলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা লিখেছেন।

সিএনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু বাংলাদেশি ডিজাইনার ও বিপণনকারীভাইরালস্টাইল বাংলাদেশ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপের সদস্য, যেখানে বিক্রি বাড়ানোর পরামর্শ এবং ফেইসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপন কীভাবে পেতে হয় তা নিয়ে পরামর্শ পাওয়া যায়।

ভাইরালস্টাইলের পণ্য উইমেনস মার্চের ভুয়া পেইজে বিক্রির চেষ্টার বিষয়ে জানতে ওই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন।

জবাবে ভাইরালস্টাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়, আনভেরিফায়েড ইমেইল ব্যবহার করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাদের সাইটে কিছু অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। সেগুলোই ফেইসবুকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সেসব অ্যাকাউন্ট ভাইরালস্টাইল বন্ধ করে দিয়েছে।

আর ভাইরালস্টাইল বাংলাদেশ এর বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্লোরিডা-ভিত্তিক ওই কোম্পানি বলেছে, যখন কোনো একটি এলাকা থেকে বেশি সংখ্যক আগ্রহী উদ্যোক্তা পাওয়া যায়, তখন তাদের জন্য এরকম আলাদা গ্রুপ করে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ব্র্যান্ড সচেতনতা গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে টিস্প্রিং সিএনএনকে বলেছে, টিস্প্রিং সরাসরি কোনো বিক্রয়কর্মী বা ডিজাইনার নিয়োগ দেয় না। বাংলাদেশ থেকে যারা টিস্প্রিংয়ে ডিজাইন দিচ্ছেন বা পণ বিক্রি করছেন, তারা সবাই কাজ রছেন নিজ উদ্যোগে। তারা কেউ টিস্প্রিংয়ে চাকরি করেন না।

bottom