Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

পোডিয়ামে পদক নিয়ে যিনি কাঁদছিলেন। আসলে সেই কান্নায় লুকিয়ে ছিল দ্রারিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতাক হারানোর আনন্দাশ্রু। ক্রিকেট ছাড়া বাকি সব খেলাকেই এ দেশে ছোট খেলা বলা হয়। ক্রিকেট একটু বড় মঞ্চে খেলত পারলেই মেলে প্রচুর অর্থ, খ্যাতি, যশ। অন্য খেলাকেই সেসব আলো কোথায়? তাই তো মাঝেমাঝই শোনা যায় জাতীয় গেমসে সোনা জয়ী ফুচকা করছেন। কখনও আবার অর্থের অভাবে চিকিত্সা হয় না ক্রীড়াবিদের। সত্য সেলুকাস কী বিচিত্র এ দেশের তথাকথিত ছোট খেলার অ্যাথলিটদের দূরবস্থার কথা নানা সময়ে সামনে আসা।


কিন্তু এবার একেবারে ক দিন আগে জাকার্তায় আয়োজিত এশিয়ান গেমসে পদক জয়ী অ্যাথলিটের জীবন সংগ্রামের কথা শুনে চমকেে যেতে হল। সদ্য সমাপ্ত এশিয়াডে সেপাক টাকরোয় প্রথমবার পদক জেতে ভারত। ইরানকে হারিয়ে সেমিফাইনাল ওঠে ভারতীয় পুরুষ সেপাক টাকরো দল। সেমিতে তাইল্যান্ডের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ পদক জেতে ভারতীয় পুরুষ দল।
সেই পদক জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন হরিশ কুমার। পোডিয়ামে পদক নিয়ে যিনি কাঁদছিলেন। আসলে সেই কান্নায় লুকিয়ে ছিল দ্রারিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতাক হারানোর আনন্দাশ্রু। হরিশ জানালেন, তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক। কিন্তু রোজগারের জায়গাটা খুব কম। তাই বাবার চায়ের দোকানে কাজ করেই তাঁকে সেপাক টাকরোয় অনুশীলন করতে হয়। আর সেখান থেকেই দেশের মাথা উঁচু করে পদক জিতে ফেরেন হরিশ। তাঁর রুটিনটা একেবারে ছকে বাঁধা ছিল। সকালে উঠে প্র্যাকটিশ। তারপর দুপুরে 2টো থেকে 6টা অবধি চায়ের দোকানে বাবাকে সহায়তা করা। লোককে চায়ের কাপ এগিয়ে দেওয়া, চায়ের কাপগুলো একটু ধুয়ে দেওয়া, টাকা নেওয়া এইসব কাজ করে বাবাকে সাহায্য করত হরিশ। তার মাঝেই মনের জোর বাড়ানোর কাজটা চলত বলে জানালেন হরিশ।

বছর পাঁচেক আগে কোচ হেমরাজের হাত ধরে সেপাক টাকরো খেলতে শুরু করেন হরিশ। খেলাটাকে ভালবেসে ফেলেন। তারপর সেখানে ভাল খেলে নজর কাড়েন। চোখে জল নিয়ে হরিশের মা বললেন, অনেক কষ্ট করে আমি আমার ছেলেকে বড় করেছি। ওর বাবা অটো চালাত। আমাদের একটা ছোট্ট চায়ের দোকান আছে। সেখান থেকেই আমাদের সংসার চলে। হরিশ ওর বাবাকে ওই চায়ের দোকানটা চালাতে সাহায্য করে। সরকারকে অনেক ধন্যবাদ আমার ছেলেকে ভাল খাবার আর সুযোগ সুবিধা দেওয়ায়। কোচ হেমরাজের জন্যই এত কিছু হল।

bottom