Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে মিছিলের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তারা বলে চলেছে—‘৩০ তারিখ সারা দিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন৷ রাশেদ খান মেনন ভাই, নৌকা মার্কায় ভোট চাই৷’ কিন্তু এ পরের চিত্র অন্যরকম। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-৮ আসনভুক্ত ১২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বের হলে এই আসনে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷


রমনা, পল্টন ও মতিঝিল নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন৷ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের আসনভুক্ত ঢাকা মহানগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগে বের হন মেনন৷ বিকেল তিনটার কিছু আগে রাজধানীর মালিবাগ মোড় থেকে রিকশাযোগে প্রচারণা শুরু করেন তিনি ৷

রাশেদ খান মেননকে বহনকারী রিকশাটি মালিবাগ মোড় থেকে শাহজাহানপুর এলাকার দিকে ঢুকতেই পেছনে মিছিলে থাকা কর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ ও হাতাহাতি৷ লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে তারা পরস্পরের ওপর চড়াও হন৷ মালিবাগ-মৌচাক উড়ালসড়কের নিচে ১৫-২০ মিনিট এই সংঘর্ষ চলে৷ পরে মালিবাগ মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় ৷ মুঠোফোনে সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এই প্রতিবেদককে মারধর করে ফোন কেড়ে নেন বিবাদমান এক পক্ষের নেতা-কর্মীরা৷ পরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার হস্তক্ষেপে মুঠোফোনটি ফেরত দেওয়া হয় ৷

সংঘর্ষ শেষে বিবাদমান দুই পক্ষই প্রচার মিছিলে যোগ দেয়৷ তবে সংঘর্ষের পর পুলিশ সদস্যরা মিছিলের পেছনে থেকে প্রটোকল দেন৷ পুলিশের প্রটোকলে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেনন ঢাকা মহানগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত মালিবাগ, শাহজাহানপুর, গুলবাগ ও শান্তিবাগ এলাকায় রিকশাযোগে প্রচারণা-মিছিল ও গণসংযোগ করেন। মাইকে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে স্লোগান চলে ৷

কাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং কেন— জানতে চাইলে মিছিলে থাকা বেশির ভাগ লোকজনই কিছু বলতে রাজি হননি। তবে মিছিলে থাকা কয়েকজন নেতা-কর্মীর কাছে ‘রাশেদ খান মেননের সমর্থক’ পরিচয় দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, মিছিলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফাহাদ ও হামিদ গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফাহাদ ও হামিদ দুজনই ছাত্রলীগ করেন৷ তবে কেউ গুরুতর আঘাত পাননি৷

সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে মালিবাগ এলাকার এক চা দোকানি বলেন, ‘গুলবাগ আর শান্তিবাগের লোকজনের মধ্যে মারামারি হইছে। হ্যারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক।’

প্রচারণার বিরতিতে শান্তিবাগে অবস্থিত স্থানীয় এক সমর্থকের বাড়িতে মিনিট বিশেক বিশ্রাম করেন মেনন৷ বিকেল সোয়া চারটার দিকে ফের প্রচারণায় বের হওয়ার মুহূর্তে সংঘর্ষ ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে রাশেদ খান মেননের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এখন তিনি শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন। পরে কথা বলবেন।

সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ খান মেননের প্রচার মিছিলের প্রটোকলে থাকা পুলিশ সদস্যদের বেশির ভাগই কথা বলতে রাজি হননি৷ এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ছোটখাট একটা ঝামেলা হয়েছিল৷ এখন কোনো সমস্যা নেই৷ পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে৷’

ঢাকা মহানগরের এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের পোস্টার ঝুলছে৷ জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ইউনূস আলী আকন্দসহ দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও দেখা গেল এলাকার কোথাও কোথাও৷ কিন্তু এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের পোস্টার এই এলাকার কোথাও দেখা যায়নি। স্থানীয় দোকানিরাও বলছেন, তারা এই এলাকায় ধানের শীষের কোনো ধরনের প্রচারণা দেখেননি ৷

bottom