Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

ক্ষমতাসীন জোটের কোনো কোনো নেতা এরই মধ্যে বলেছেন, এ ঐক্যের নামে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়েছে বিএনপি, গণফোরাম, বিকল্পধারা, যুক্তফ্রন্টসহ আরও কিছু ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। ২২ অক্টোবর, শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ওই নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


Hostens.com - A home for your website

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে এ সমাবেশের মূল উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন। এতে বিকল্পধারা ও রাজনৈতিক মোর্চা যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির চারজন জ্যেষ্ঠ নেতা যোগ দিয়েছিলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল তথা জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্প ধারার মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরসহ অনেকেই এই সমাবেশে অংশ নেন। এ ছাড়াও কয়েকটি বাম ও ইসলামপন্থী দলের নেতারা সমাবেশে যোগ দেন।

কিছুদিন ধরেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া যে পাঁচ-দফা দাবি তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা।

সমাবেশে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের অন্যতম নেতা মাহি বি চৌধুরী বলেন, যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে এখনো কিছুটা মতভেদ আছে।

পাঁচ-দফা দাবি বিএনপির কিছু দাবির সঙ্গে মিলেছে। কিন্তু পুরো বিষয়টি একরকম নয় জানিয়ে মাহি বি চৌধুরী বলেন, এটা সম্পূর্ণ একই জিনিস নয়। একই জিনিস হলে তো ঐক্য হয়েই যেত।

রাজনীতির মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অনেক দিন ধরেই সরকারের চাপে কোণঠাসা অবস্থায় আছে বলে মনে করেন অনেকেই।

এমন অবস্থায় দলটি চাইছে নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ আরও পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশে পেতে। তাতে আন্দোলনে সুবিধা হবে বলে দলটির কোনো কোনো নেতার ধারণা।

২১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় গিয়ে বৈঠক করেন।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। সেটাই করার চেষ্টা হচ্ছে।

জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, পাঁচটি মৌলিক বিষয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিষ্কারভাবে ঐকমত্য হয়েছে এবং আমরা সবাই সামনের দিকে চলব।

ড. কামাল হোসেন এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকারবিরোধী যে রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি নিয়ে সমালোচনামুখর ক্ষমতাসীন দল ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা। ক্ষমতাসীন জোটের কোনো কোনো নেতা এরই মধ্যে বলেছেন, এ ঐক্যের নামে তারা মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান।

যদিও ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, তাদের উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীর কোনো স্থান নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ কী। এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করেন, এর ভবিষ্যৎ পরিষ্কার না হলেও এটি বিএনপির জন্য কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি করতে পারে।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর ভাষ্য, ঐক্যজোটের যারা নেতা আছেন, তারা জনগণের কাছে খুব পরিচিত। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে তারা কতটুকু ভোটার টানতে পারবেন, তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

তবে এ রাজনৈতিক ঐক্য হলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি পায়ের তলায় মাটি পাবে বলে উল্লেখ করেন দিলারা চৌধুরী। তার ধারণা, একদিকে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির সমর্থন ও নেতা-কর্মী আছে। অন্যদিকে ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পরিচিতি আছে।

এ দুটি বিষয় একত্রিত হলে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক সুবিধা হবে বলেই মনে করেন দিলারা চৌধুরী।

Report by - https://www.priyo.com

Facebook Comments

bottom