Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির দেহাবশেষের সন্ধানে ইস্তাম্বুলের উপকণ্ঠে একটি জঙ্গল ও মর্মর সাগরের কাছের এক শহরে তল্লাশি চালাচ্ছে তুরস্ক। দুই সপ্তাহ আগে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে প্রবেশের পর থেকেই রাজপরিবারের নীতির কট্টর সমালোচক খাসোগির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাকে সৌদি গুপ্তজচররা কনসুলেটের ভেতরেই নির্যাতন ও হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলেছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। রিয়াদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও তুরস্ক বলছে, তাদের কাছে খাসোগিকে হত্যার পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।


কনসুলেট ভবন ও কনসালের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে অনেক নমুনা পাওয়ে গেছে বলেও দাবি তুর্কি কর্মকর্তাদের; প্রাপ্ত নমুনা থেকে খাসোগির ডিএনএ উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে।

এর মধ্যেই সৌদি সাংবাদিকের দেহাবশেষের খোঁজ পেতে বেলগ্রাড জঙ্গল ও ইয়ালোভা শহরের একটি স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে তুর্কি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

কর্মকর্তারা বলছেন, কনসুলেট ভবন ও কনসালের বাসভবন শেষে তারা তাদের তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছেন।

খাসোগির নিখোঁজের দিন কনসুলেট ভবন থেকে যেসব যানবাহন বেরিয়ে গেছে সেগুলোর গন্তব্য দেখেই বেলগ্রাড জঙ্গল ও ইস্তাম্বুল থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরের ইয়ালোভায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ দুটি স্থানে খাসোগির দেহাবশেষ থাকতে পারে বলেও অনুমান তাদের।

কর্মকর্তারা বলছেন, খাসোগির দেহাবশেষ নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে কোনো একটি ফার্ম হাউস বা ভিলাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।

এর আগে বৃহস্পতিবার তুর্কি তদন্ত দল সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট খাসোগির খোঁজে ইস্তাম্বুলের কনসুলেট ভবন ও কনসালের বাসভবনে দ্বিতীয় দফা তল্লাশি চালায়।

এ দুই স্থানের মাটি ও পানিসহ অসংখ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

খাসোগি সম্ভবত মারাই গেছেন বলে ধারণা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। যদিও এর জন্য রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রি আটকাবে না, বলেছেন তিনি।

তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে ঢুকেছিলেন বছরখানেক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা খাসোগি।

নয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খাসোগি কনসুলেট থেকে বেরিয়ে না আসায় তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান হেতিস।

খাসোগি যেদিন কনসুলেট ভবনে গিয়েছিলেন সেদিনই ১৫ সদস্যের একদল সৌদি গুপ্তচর ইস্তাম্বুল নেমেছিল বলে দাবি করে তুরস্ক। ওই গুপ্তচররাই রাজপরিবারের সমালোচক সাংবাদিককে কনসুলেট ভবনের ভেতর হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে বলে জানায় তুর্কি সূত্রগুলো।

চলতি সপ্তাহে সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগিকে কনসুলেটের ভেতর হত্যার স্বীকারোক্তি দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এ ঘটনার জন্য জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাদের ওপর দোষ চাপানোর কথাও ভাবছে তারা।

মার্কিন গণমাধ্যম দুটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা খাসোগিকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্সই। ভুল পথে পরিচালিত জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনেই খাসোগির মৃত্যু হয়, রিয়াদ তাদের দায় স্বীকারে এমনটি বলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্রাউন প্রিন্সের দায় মোচনের চেষ্টা চলছে বলেও মত নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

খাসোগির নিখোঁজকাণ্ডে সমালোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন সাংসদদের অনেকেই সৌদি আরবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবতে প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ট্রাম্প বলেছেন, খাসোগিকে মেরে ফেলায় রিয়াদের হাত প্রমাণিত হলেই কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

এ মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবে হতে যাওয়া একটি বিনিয়োগ সম্মেলন থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বেশিরভাগ দেশ।

মরুভূমির দাভোসখ্যাত ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছে না অনেক গণমাধ্যম ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানও।

bottom