Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তার তিন আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজন। এর মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার নিজের আসন ঠাকুরগাঁও-১ এর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার আসন বগুড়া-৬ (সদর) এর জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।


আর খালেদার বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিকল্প প্রার্থী হয়েছেন গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোরশেদ মিল্টন। ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া) আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনুর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

হাই কোর্টের এক রায়ে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ আটকে যাওয়ার পর বুধবার মনোনয়ন জমার শেষ দিনে বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হল।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতারা আশা করছিলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তিনি ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ফেনী ও বগুড়ার তিনটি আসন থেকে তাকে ধানের শীষের মনোনয়নও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু মঙ্গলবার হাই কোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এর ফলে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার আপিল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আটকে যায়।

মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে নিজের আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। পরে সৈয়দপুরে এসে খালেদা জিয়ার বিকল্প হিসেবে বগুড়া ছয় আসনের মনোনয়নপত্রে তিনি সই করেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বগুড়ার রিটার্নিং রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা ও ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেন বলে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ জানান।

মির্জা ফখরুল সৈয়দপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার কথা আমরা কখনো ভাবিনি। এবং আজকে এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক যে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, তাকে বাদ দিয়ে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটা সরকারে অপকৌশল, নির্বাচনের ঠিক পূর্বে এ রায় ঘোষণা করার অর্থই হচ্ছে দেশনেত্রীকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা।”

সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে অভিযোগ করে দলের মহাসচিব বলেন, “সরকার যতই চেষ্টা করুক আমাদের নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার, আমরা দূরে সরে যাব না। আমরা শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে থাকব। নির্বাচনে জয়ী হয়ে, আন্দোলনে জয়ী হয়ে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করব।”

ফখরুল বলেন, পার্টির সিদ্ধান্তে তিনি বগুড়া সদরে চেয়ারপারসনের আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন করবেন খালেদা জিয়ার নামে।

“আজকে এই ফরমে সই করতে গিয়ে আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়েছি, আমার নেতারাও ভারাক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও আমরা পরম করুণাময় আল্লাহতালার কাছে আস্থা রাখছি… ভিক্টরি ইজ আওয়ারস।”

মির্জা ফখরুল ছাড়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ দুই আসনে তার বিকল্প হিসেবে তার ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

bottom