Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়তে চান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। চান হারিয়ে যাওয়া মাঠ দখলমুক্ত এবং হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন করতে। ইতিমধ্যে নগরের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্থান ঘুরে সমস্যা চিহ্নিত করছেন। আবর্জনা যাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তা নিয়েও ভাবছেন। এসব বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে নগর নিয়ে লেখা বইপত্র সংগ্রহ করে বইগুলো পড়তে শুরু করেছেন।


জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ’আমি কেন মেয়র হতে চাই’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সিনিয়র সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিন, দেশ টিভির নির্বাহী সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক, এটিএন নিউজের সম্পাদক প্রভাষ আমিন, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ. ই. মামুন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক রাহুল রাহা, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক ও সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী।

আতিকুল ইসলাম কেন মেয়র হতে চান তা তার কাছে জানতে চান প্যানেল আলোচক অজয় দাশগুপ্ত। উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, নগরকেন্দ্রিক উন্নতি যেমন হচ্ছে তেমনি বৈষম্য বাড়ছে। যা হচ্ছে তার অনেক কিছুই পরিকল্পনা ছাড়া হচ্ছে।

মেয়র নির্বাচিত হলে একটি সুন্দর, যানজট-জলজটমুক্ত আধুনিক ঢাকা শহর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে শহরটা নোংরা করা থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মাঠগুলোর সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হবে। ফুটপাতের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

সোহরাব হাসান মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চান, ৫৪টি সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে সব মেয়রই নগর সরকার চান। এ বিষয়ে দল যদি বিরোধিতা করে, তবুও নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন কি-না?

জবাবে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নিজের কাছে কোনো ম্যাজিক নেই মন্তব্য করে সবার ভালোবাসা নিয়েই মেয়র হতে চান বলে জানান। বলেন, ’নির্বাচন পছন্দ করি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগেও প্রস্তুত ছিলাম এখনও আছি। এখন সময় এসেছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান এক ছাতার নিচে এনে কাজ করার। নির্বাচিত হতে পারলে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বর্ষাকাল শুরু হবে। তাই প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।’

সুকান্ত গুপ্ত অলক প্রশ্ন করেন, আনিসুল হকের পরিকল্পনা ছাড়া আপনার নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না? আপনি টেকসই হকার উচ্ছেদের কথা বলেছেন। হকারদের উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন করবেন, এর জায়গা কোথায়?

উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, ’নগরের উন্নয়নে যখন নানা প্ল্যান করি, দেখি সবই প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাই বারবার আনিসুল হকের কথা সামনে চলে আসে।’

ঢাকা শহরের খেলার মাঠ নিয়ে ভালো কিছু পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, যে মাঠগুলো আছে সেখানে মাটির নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে হকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থার সঙ্গে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া হকারদের এলাকাভিত্তিক কার্ড করে দিয়ে সপ্তাহে দু’দিন করে অন্যান্য দেশের মতো বসানোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খালেদ মুহিউদ্দিন মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কখন মনে হলো আপনি মেয়র হবেন? আপনি তো আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, এরপরও কীভাবে প্রধানমন্ত্রীকে কনভিন্স করে মেয়র প্রার্থী হলেন?

উত্তরে আতিকুল ইসলাম জানান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ওই কঠিন মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ নিয়ে পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সে সময় বারবার কথা হয়েছে। মনোনয়নের সবকিছুই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথমবার রিট খারিজ হওয়ায় তিনি কিছুটা সময় পেয়ে অনেক এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সমাধানের পরিকল্পনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি দু’বার ইন্টারভিউ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং দল যোগ্য বিবেচনা করায় মনোনয়ন দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ. ই. মামুনের প্রশ্নের উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, মশকনিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুন্দর নগরী গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য অবশ্যই সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। তবে সব সমস্যার সমাধান করতে খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ৫৪টি সংস্থাকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা অনেক কঠিন। মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম চ্যালেঞ্জের যে ঘোড়ার পিঠে চড়েছেন সেখানে চলা খুব কঠিন কাজ। সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তিনি জয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি।

bottom