Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

‘আমার ভাই বেঁচে নেই তা আমরা বিশ্বাস করি না। আমৃত্যু বিশ্বাস করে যাব, ভাই একদিন ঠিকই ফিরে আসবে। প্রতিদিন রাতে এই আশা নিয়ে ঘুমাতে যাই। একই আশায় সকালে ঘুম ভাঙে’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিম রেজা পিন্টুর বড় বোন রেহেনা বানু মুন্নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তার ভাই সেলিম রেজাকে তুলে নেওয়ার পাঁচ বছর পরও তার ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার।


Hostens.com - A home for your website

বিয়ের বছর পার না হতেই সেলিমের জীবনে নেমে আসে এমন বিভীষিকা। আর পরিবারটির মানসিক যন্ত্রণা অনেক বেশি বাড়িয়ে তুলেছে অর্থনৈতিক সংকট। এমন চিত্র শুধু সেলিমের স্বজনের নয়, গুমের শিকার অনেক পরিবারই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিশেষ করে র‌্যাব-পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে এসব মানুষকে। এসব পরিবার জানে না তাদের প্রিয়জন কেমন আছেন।

বেঁচে থাকলে কেমন আছেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেই সময় কাটে কিছু পরিবারের। সাড়ে ১৫ মাস আগে নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান সম্প্রতি ফিরে আসায় কেউ-কেউ আশা দেখছেন তাদের নিখোঁজ স্বজনের ফেরার। তারা বুক বেঁধেছেন, প্রিয়জন হয়তো একদিন ফিরতেও পারে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরই সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৩৪ জনকে তুলে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুজন বিএনপি নেতা, সাধারণ ছাত্র তিনজন, ছাত্রশিবিরের দুজন, ব্লগার একজন, ব্যবসায়ী সাতজন, শ্রমিকলীগ নেতা একজন, ছাত্রদল নেতা একজন, অটোরিকশা চালক দুজন, শিক্ষানবিশ আইনজীবী একজন, চাকরিজীবী দুজন, চিকিৎসক একজন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা একজন, নারী একজন, চা দোকানদার একজন, জামায়াতকর্মী একজন, ইউপি সদস্য একজন। এ ছাড়া ৬ জনের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে দুজন বাড়ি ফেরেন। নিখোঁজদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১৭ জনকে। বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দুজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। এই দুজনের মধ্যে একজন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা।

এ নিয়ে গত ১৪ মাসে মোট ১৭ জন নিখোঁজ ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে পারেনি পরিবার। ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে সেলিম রেজা পিন্টুকে তুলে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। এ সময় তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে একটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাসে তোলে। নিখোঁজ সেলিম রেজা সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি ছিলেন। নিখোঁজের পর সেলিমের সন্ধানে তার পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাননি। এখন শুধু অপেক্ষাই পরিবারটির একমাত্র করণীয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন আমাদের সময়কে বলেন, ’মানুষের আকাক্সক্ষা ছিল রাষ্ট্র গুম সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে। গুমকে বন্ধ করার জন্য দৃশ্যমান যেসব পদক্ষেপ দরকার ছিল তা অনুপস্থিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মধ্যে আনা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা হতে থাকবে। গত এক দশক ধরে একের পর এক মানুষ গুম হচ্ছে। কারও কারও গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হলেও অনেকের সন্ধান মিলছে না।

এভাবে চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে ভয়াবহ ক্ষোভ তৈরি হবে, যার জন্য সমাজকে মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ’নিখোঁজ ব্যক্তিরা ফিরে এসে কথা বলতে পারে না। কারণ নিঃসংকোচে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। এখনো সময় আছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, ’আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করা নতুন কিছু নয়।

এ ধরনের অপরাধীদের দেখলে সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবকে জানানোর জন্য অনুরোধ করব আমি।’ ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতে ছোট মেয়েকে আনতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে নিখোঁজ হন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। গত শুক্রবার গভীর রাতে বাসায় ফেরেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। তবে ফিরে আসা অন্যদের মতো তিনিও নিখোঁজ থাকার সময় নিয়ে কোনো কথা বলেননি। গত বছরের ৮ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানকে তার মিরপুরের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। এরপর খোঁজ মিলছে না সাবেক এই র‌্যাব কর্মকর্তার।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom