Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

বিএনপির অভিযোগের মুখে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার পদে যে রদবদল করা হচ্ছে, তা তাদের জন্য আরও সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশন তাদের অভিযোগের প্রতি নজর না দিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ’ অনুসারে সব কিছু করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, গত দুই দিনে বিএনপির মনোনীত তিনজন প্রার্থীকে ‘গ্রেপ্তার করা হয়েছে’।


গায়েবি মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই-এক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে যাবেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই যাওয়াতেও কোনো কাজ হবে বলে তারা আশাবাদী নন।

“আমরা বহু চিঠি নির্বাচন কমিশনে দিয়েছি। একটা চিঠিরও উত্তর আসেনি, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কী হয়েছে?

“রদবদলের কথা বলেছি। নারায়ণগঞ্জের এসপি যার স্ত্রী একজন এমপি ছিলেন, তাকে বদলি করে সেখানে দেওয়া হয়েছে গাজীপুরের হারুন (হারুন অর রশীদ) সাহেবকে। অর্থাৎ এ যেন ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়ছে- এই অবস্থা!”

গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের এসপি আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তার স্ত্রী বেগম ফাতেমা তুজ্জহুরা আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে, স্ত্রী একই এলাকায় একটি দলের সাংসদ হওয়ায় তার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।

এরপরই তাকে প্রত্যাহার করে নতুন একজন পুলিশ সুপারকে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ নির্বাচন কমিশন। এখন সেখানে এসপি হারুনকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে খবর দিলেন ফখরুল, যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকারি কোনো আদেশ হয়নি।

হারুন অর রশিদ এর আগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল বিএনপি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে তারা নেই।
“তারা সরকারের নীল নকশার বাস্তবায়ন করে চলেছে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধ করুন, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিন। অন্যথায় উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সকল দায়-দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।”
পরাজয়ের শঙ্কা থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “ আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশ, সরকারের যে নির্দেশ সেই নির্দেশই অনুসরণ করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ভয় পাচ্ছেন বলেই এতো সব কিছু আয়োজন করছেন নির্বাচনটাকে পুরোপুরি করায়ত্ব করার জন্য।

“আজকে খুব স্বাভাবিকভাবে জনগণের কাছে প্রশ্ন এসে গেছে যে, নির্বাচন হবে কি না? এই প্রহসনের নির্বাচন করে লাভ কী? যে কথাটা এসছে- আস্থা, সেই আস্থা আগেও ছিল না, এখনো নেই।”

এ রকম পরিস্থিতিতে আপনারা নির্বাচনে থাকবেন কি না প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, “আমরা নির্বাচনে থাকার জন্যই তো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচন করতে এতো কষ্ট করে চার-পাঁচ দিন ধরে আমরা কাজ করলাম, প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিলাম।

“আপনার (প্রশ্নকারী সাংবাদিককে) কী মনে হয় নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণ থাকবে? আপনি বলুন।”

নির্বাচনে বিএনপির থাকা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সন্দেহ প্রকাশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “তার প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে চাই না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মনে হয় যে, অবান্তর কথা-বার্তা। এগুলো বলার কোনো মানে হয় না।

“গতকাল তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, আমরা নাকি দলকে, জোটকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। এটা তার চিন্তা-ভাবনা। এত দুশ্চিন্তা তার কেন? এর আগে উনি বলেছেন যে, আমরা নাকি প্রার্থী খুঁজে পাব না। আসলে তিনশ আসনেই আমাদের দুইয়ের অধিক প্রার্থী।

“তাকে বলব, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিন, সকলকে সমান সুযোগ দিন। দেখেন কে কতটা আসন পায়। তারা (সরকার) জানেন ৩০টার বেশি আসন তাদের নেই । সেই কারণে তারা আজকে এই খেলাগুলো খেলছে।”

নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৬৯৬ জন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কতটা মামলা রয়েছে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সকলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আমরা হলফনামা যখন আমি লিখতে গেছি চার পৃষ্ঠা গেছে আমার মামলার বিবরণে।

“আমরা বিরুদ্ধে মোর দ্যান ১০০। আমাদের স্থায়ী কমিটির এখানে যারা বসে আছেন তাদের সবার বিরুদ্ধে।”

আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বড় বড় মিছিল নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, “অন্যদিকে আমাদের প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অপহরণ করা হয়েছে, তাদের গুম করা হয়েছে। আমাদের নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন, আরেকজন মাগুরার মনোয়ার হোসেন খান যারা প্রার্থী তাদের আটক করা হয়েছে। ভোলার লালমোহনে আমাদের দলের নেতা হাফিজউদ্দিনের বাড়িতে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে।

“আজকে পত্রিকায় দেখেছেন যে, আমাদের নেতা সাদেক হোসেন খোকা সাহেবের ছেলে যিনি ঢাকার একটি আসনের প্রার্থী তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
“অর্থাৎ নিম্ন আদালতকে পুরোপুরি করায়ত্ব করা হয়েছে এবং হাই কোর্ট থেকেও দেখা যাচ্ছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু কিছু আদেশ আসছে, যা কোনোমতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক নয়। বরং তা বাধার সৃষ্টি করছে ।”
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের একটি তালিকাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার চলছেই, অব্যাহতভাবে আছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কতটুকু সম্ভব, কীভাবে সম্ভব? নির্বাচন কমিশনের যে কথা, যা কিছু করছে, পুলিশও তার নির্দেশেই করছে। গতকাল উনি (সিইসি) বলেছেন যে, খুব খুশি। তার প্রতি আস্থা আছে বলেই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করছে।

“আমরা বলছি, গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। গায়েবি মামলা বন্ধ করতে হবে। গায়েবি মামলার চার্জশিট দেওয়া শুরু হয়েছে। এভাবে এই নির্বাচনের পরিণতি কী হবে এটা আমরা বুঝতে পারছি না।”

উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

নোয়াখালী-৫ আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ওবায়দুল কাদের নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করছেন অভিযোগ করে তার সমর্থনে কিছু আলোকচিত্র তুলে ধরেন ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি ২০ তারিখে। কিন্তু আট দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের গ্রহণযোগ্যতা বলতে এখন আর কিছু নাই।

“তারা মুখে ভালো ভালো বক্তৃতা করেন, কিন্তু কাজকর্মে কোনো রকমের সাহস বা তাদের যে ক্ষমতা সেটা তারা প্রয়োগ করতে পারেনি। সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে। এই কমিশনের অধীনে অবাধ ‍সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না।”

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

bottom