Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

ঋণ খেলাপি হওয়ার পেছনে ২৭টি সমস্যা চিহ্নিত করে এর সমাধানে বড় ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি বেশকিছু সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে চিহ্নিত সমস্যার সঙ্গে একমত পোষণ করে সমাধানের বিষয়ে আরো বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হতে বলছেন তাঁরা।


Hostens.com - A home for your website

দেশের অর্থনীতিতে ক্রমেই বাড়ছে খেলাপি ঋণের বোঝা। প্রায় এক লাখ কোটি টাকার পাহাড়সম খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত আর্থিক খাত। খেলাপি হওয়ার পেছনে ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়াতেই গলদ দেখছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অসৎ ঋণগ্রহীতারা একই জমি বিভিন্ন ব্যাংকে জামানত রেখে ঋণ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। অর্থ মন্ত্রণালয়  এ রকম ২৭টি সমস্যা চিহ্নিত করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। যার সবই ব্যাংকের ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়ন, ঋণ প্রদান, খেলাপি ঋণ আদায়, কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি এবং পর্ষদ সদস্যের নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ ব্যাপারে রূপালী ব্যাংক লিমিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘ঋণ দেওয়ার সময় গ্রাহকের প্রেশারটা বেশি থাকে, ঋণ পাওয়ার জন্য। স্বাভাবিকভাবে যখন ঋণটা আদায় হয় না তখন মামলায় যেতে হয়। মামলায় গেলে কিন্তু বিষয়টা আমার কাছে সীমাবদ্ধ থাকে না তখন নানা প্রতিষ্ঠান থেকে জড়িত হয়। ফলে নানা কারণেই কিন্তু ঋণ আদায়টা স্লো হয়।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘প্রতি বছরই কিন্তু ক্রমপুঞ্জীভূতভাবে তাদের এই খেলাপি ঋণটা বেড়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে  তাদের সাপোর্টটা দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে আস্তে আস্তে এই ভর্তুকি থেকে উঠে আসবে, ব্যাংকগুলোকে দক্ষ করবে এবং প্রতিযোগিতামূলক করবে—তো এইটা একটা বড় সমস্যা।’

এসব সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ-এই তিন মেয়াদি পরিকল্পনা করে এসব সমস্যা সমাধানের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণের জালিয়াতি রোধে তথ্যকোষ গঠন, বড় ঋণ খেলাপির তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ, মামলা নিষ্পত্তিতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ ও বড় ঋণ খেলাপি তদারকির জন্য সেল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এসব সুপারিশ বাস্তাবায়ন করাটা সময় সাপেক্ষ এবং কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে আরো বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রূপালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘একটা তথ্যভাণ্ডার থেকে, একই পয়েন্ট থেকে আমরা যদি তথ্যগুলো নিই তাহলে এটা আরো বেশি ইফেক্টিভ হবে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে।’ তিনি বলেন, ‘তালিকা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আরো বেশি আমার মনে হয় সতর্ক হওয়া উচিত বা আরো চিন্তাভাবনা করা উচিত। কেননা, এর সঙ্গে কিন্তু একটা লিগ্যাল ইস্যু থাকে।’

ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘যারা অলরেডি বিনিয়োগকারী আছে এই সিস্টেমের কারণে কিন্তু তারা খেলাপি ঋণগ্রহীতা হয়ে গেছে। তাদের তালিকা প্রকাশ করলেও আসলে কী অবস্থা দাঁড়াবে। পুরো বিষয়টা কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ। একটা শক্ত নীতিমালা দরকার। মানে যেটা আছে সেখানে কিন্তু এই প্রবলেমগুলো তৈরি হচ্ছে। আমাদের মানিটারি পলিসি কিন্তু ওইভাবে শক্ত নির্দেশনা দিচ্ছে না।’

ব্যাংকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকের এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, সামাজিক কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সেবার বিনিময়ে ব্যাংকগুলোর জন্য মাশুলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিধি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

Report by - https://www.ntvbd.com/economy/212219/%E0%A6%8B%E0%

Facebook Comments

bottom