Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

কয়েক মাস কমতির দিকে থাকার পর দেশে চালের দাম বেড়েছে। রাজধানীর কয়েকটি বাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিনে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। বেড়েছে আটা ও ময়দার দামও। বাজারে আটা কিনতে গেলে ক্রেতাকে দুই টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


চালকলের মালিকদের দাবি, প্রতিবছর আমন মৌসুম এলে চালের দাম কিছুটা বাড়ে। সরকারিভাবে এখন ৩৬ টাকা কেজি দরে মোটা চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। তাঁরা বলছেন, চালের দাম এত দিন কম ছিল। ফলে কৃষকেরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছিলেন না। গম আমদানিকারক ও আটা বিপণনকারীদের দাবি, বিশ্ববাজারে গমের দাম বেশ বেড়েছে। সে অনুপাতে দেশে আটার দাম বাড়েনি।

পুরান ঢাকার বাবুবাজার–বাদামতলীর চালের আড়তমালিকেরা জানান, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। মোটা চালের পাইকারি দর উঠেছে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকার আশপাশে। অন্যদিকে মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে কেজিপ্রতি ৩৮–৪২ টাকায়। এ ছাড়া ভালো মানের সরু মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৫২–৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাদামতলীর চালের আড়ত শিল্পী রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী কাওসার রহমান বলেন, ভোটের কয়েক দিন আগে ও পরে মিলিয়ে চালের দামটা কিছুটা বাড়ল। মোটা চাল কেজিপ্রতি ৩২–৩৩ টাকায় নেমে গিয়েছিল যা ২০১৭ সালের শেষ দিকে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকার বেশি ছিল।


ঢাকার কাজীপাড়া ও কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে ভালো মানের সরু মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৫৫–৫৬ টাকা, মাঝারি বিভিন্ন চাল ৪৪–৪৮ টাকা এবং মোটা গুটি ও স্বর্ণা চাল ৩৭–৩৮ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অবশ্য বাজারে এর বাইরে আরও কম দামের মোটা চাল রয়েছে, যা সব বাজারে পাওয়া যায় না। আবার মানও তেমন ভালো না।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, দাম বাড়িয়েও চাল সরবরাহে মিলমালিকেরা গড়িমসি করছেন। নগদ টাকা পাঠিয়েও তিনি চালের সরবরাহ পাননি। মিলমালিকেরা বলছেন, চাল সরবরাহে দেরি হবে। ওই ব্যবসায়ী জানান, সুগন্ধি চালের দাম দুই দফায় কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় উঠেছে। এটা খুচরা দোকানে আরও বেশি পড়বে।

চালের দামের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সময় ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাস। ওই সময় খুচরা বাজারে মোটা চালের দর কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় উঠেছিল। আর সরু চাল উঠেছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়। এরপর বাড়তি আমদানি ও ২০১৮ সালের শুরুতে বোরোর মৌসুমের ভালো ফলনে চালের দাম কমে। বছরের শেষ দিকে আমনের ভালো ফলন হলেও কৃষকেরা ভালো দাম পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

চালকল মালিকদের বড় সংগঠন বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাসকিং মিলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, সরকার পুরোদমে চাল কেনা শুরু করার পর দাম কিছুটা বেড়েছে। এতে ধানের দামও মণে ৫০ টাকার মতো বাড়তি। এখন প্রতি মণ ধান ৬৫০–৬৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কমপক্ষে ৭৫০ টাকায় ওঠা দরকার।


কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আটা ও ময়দার দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা করে বেড়েছে। আটা প্রতি দুই কেজির প্যাকেট ৬৮ টাকা ও ময়দা ৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানতে চাইলে খাদ্যপণ্য বিপণনকারী একটি বড় কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববাজারে গমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। দেশে প্রতিযোগিতা বেশি বলে বিশ্ববাজারের মতো দাম বাড়ছে না।

 

bottom