Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

দেশে শারীরিক ও মানসিক ত্রম্নটি নিয়ে জন্ম হওয়া শিশুদের বিকাশজনিত সমস্যায় সেবা দিতে মাত্র ২৩টি শিশু বিকাশকেন্দ্র চালু রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ১০৫টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিপরীতে স্বল্পসংখ্যক কেন্দ্র হওয়ায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের শিশু-কিশোররা। ফলে এমন সমস্যায় ভোগা রোগীদের দ্রম্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সব মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতাগুলোতে শিশুবিকাশকেন্দ্র চালুর দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Hostens.com - A home for your website

 শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সাধারণত একটি শিশুর জন্মের পর দুই বছর বয়স পর্যন্ত তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিশু জটিলতা নিয়ে জন্ম নেয়ার কারণে বয়সের তুলনায় তাদের বুদ্ধি কম হওয়া বা কথা শিখতে দেরি হয়। এছাড়া কানে কম শোনা, চোখে না দেখাসহ খিঁচুনি, আচরণগত ও শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। ফলে দ্রম্নত সমস্যা চিহ্নিত করে মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিলে পরবর্তীতে শিশু প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শিশুবিকাশ কেন্দ্রগুলোতে সমবয়সীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়া শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের সহায়তায় পরিবেশ ও বয়স উপযোগী উদ্দীপনার ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে মোটিভেশনাল ওয়ার্কের মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক আচরণে উদ্বুদ্ধকরণ, ডেভেলপমেন্টাল থেরাপি, অ্যাকটিভ অ্যান্ড পেসিভ থেরাপি, স্টিমুলেশন করা হয়। এছাড়া অভিভাবকদের প্যারেন্টস কাউন্সেলিং, সহযোগী শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। দক্ষ সেবাদাতা তৈরি করতে শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকাশজনিত সমস্যায় ভোগা শিশু-কিশোরদের চিকিৎসায় হাতেগোনা কয়েকটা বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়া মাত্র ১৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু-বিকাশ কেন্দ্রে আছে। আর প্রয়োজনের তুলনায়-সেবাকেন্দ্র অপ্রতুল হওয়ায় ভবিষ্যতে ত্রম্নটি নিয়ে জন্ম হওয়া শিশুদের মধ্যে পঙ্গুত্বের হার বাড়ার আশঙ্কা করছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। ফলে সংশ্লিষ্টদেরকে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দ্রম্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে প্রতিটা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতাল সমূহে কেন্দ্র চালু করা জরুরি বলছেন চিকিৎসকরা। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা শিশু হাসপাতালের একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ না হলে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে-সঙ্গে শিশুটি পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে ওঠে। বিষয়টি অনুধাবন করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অমনোযোগী ও স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন শিশুদের মেধা বিকাশে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে একটি করে শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ১০৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকলেও ১৫টি হাসপাতাল ছাড়া এ সেবা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের অনেকেই সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে প্রায় এক যুগ ধরে এটি এখনো প্রকল্প হিসেবে চলমান আছে। কর্মরতদের বেতন-ভাতাও অনিয়মিত। ফলে সব সরকারি হাসপাতালে দ্রম্নত কেন্দ্র চালু করে প্রকল্পটি রাজস্বখাত ভুক্ত করলে সেবার কলেবর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা নিশ্চিতও সম্ভব হবে। রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ১৯ মাসের শিশু আলিফকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। আলিফের মা আমেনা বেগম বলেন, বাচ্চার প্রধান সমস্যা বয়স অনুযায়ী অন্যান্য শিশুর মত তার ঘাড় শক্ত না হওয়া। ফলে সে হাসে না, ডাকলে সাড়া দেয়না, প্রায় সময় খিচুনি হয়। তবে গত এক বছর ধরে এখানে বিভিন্ন ধরনের থেরাপি ও চিকিৎসা দিয়ে বাচ্চার ঘাড় শক্ত হয়েছে, হাসতে শিখেছে। ডাকলে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। সাভার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ৪ বছর বয়সী আরেক শিশু জুনায়েদের মা মারিয়াম আক্তার বলেন, জন্মের পর থেকে বাচ্চা হাত-পায়ে শক্তি পেত না। এ কারণে কোনো কিছু হাতে ধরতে ও বসতে পারত না। অনেক চিকিৎসক দেখিয়েও উন্নতি না হওয়ায় একজনের পরামর্শে এখানে প্রতিমাসে একবার করে ছেলেকে নিয়ে আসেন। নিয়মিত ফলোআপ করায় বাচ্চা আগের চেয়ে অনেকটা ভালো হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ঠিকানা তার মতো অনেক ভুক্তভোগীই জানে না। তাই সরকারের উচিত এমন কেন্দ্র আরও তৈরি করা। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের শিশু বিকাশ কেন্দ্র সম্পর্কে সেখানকার চিকিৎসক ডা. মোশরাত জাহান যায়যায়দিনকে বলেন, সাধারণত প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে শিশু চিকিৎসক, শিশু মনোবিজ্ঞানী, শিশু-বিকাশ সহযোগী প্রশিক্ষকসহ (থেরাপিস্ট) পাঁচজন কর্মরত থাকেন। সপ্তাহে ৬ দিনের রুটিন অনুসারে প্রত্যেক শনিবার অটিজম ক্লিনিকে অটিস্টিক শিশুদের সেবা দেয়া হয়। রবি থেকে মঙ্গলবার বিভিন্ন ধরনের নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার সমস্যার চিকিৎসা করা হয়। বুধবার এপিলেপসি বা মৃগীরোগ আক্রান্ত শিশু, বৃহস্পতিবার গাইনি বিভাগের বাচ্চাদের নরমাল অ্যাসেসমেন্টা করা হয়। পাশাপাশি আক্রান্তদের নিয়মিত ফলোআপ সেবা দেয়া হয়। ডেভেলপমেন্টাল থেরাপিস্ট ইয়াসমিন তানাকা বলেন, শিশু বিকাশ কেন্দ্রেটিতে আরলি ডায়াগনোসিস অ্যান্ড আরলি ইন্টারভেনশন পদ্ধতি মেনে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন শিশুর চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৫ জন এবং শুধু ২০১৮ সালেই ৭৯৭ জন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা করে সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। এক্ষেত্রে শূন্য থেকে ২ বছর বয়সী নরমাল বাচ্চা ও শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাসেসমেন্ট, মেডিকেশন, থেরাপি দেয়া হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী আক্রান্তদের ব্যবহারিক চিকিৎসায় প্যাক্স, বাবলস, বেলুন। সেরিব্রাল পালসি রোগীদের জন্য কর্নার চেয়ার, স্ট্যানডিং ফ্রেমসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা উপকরণের মাধ্যমে স্টিমুলেশন বা উদ্দীপনা দেয়া হয়। ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও এই প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী (অনারারি) ও বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ যায়যায়দিনকে বলেন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদেরকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ১৯৯২ সালে প্রথম বেসরকারিভাবে শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালু হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত কর্মসূচির (এইচএনপিএসপি) আওতায় শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রকল্প চালু হয়। ২০০৯ সালে ১৬ অক্টোবর থেকে সরকারিভাবে দেশের ১৪টি হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র নামের প্রকল্প শুরু হয়। এই মুহূর্তে দেশে সরকারিভাবে ১৫ ও বেসরকারিভাবে ৮টিসহ মোট ২৩টি কেন্দ্র চালু রয়েছে। আগামী মার্চে আরও ১১টি চালু করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় চালু করা হবে।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom