Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সম্মুখ সারিতে লড়াইয়ের জন্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দারফুর থেকে সুদানি শিশু সৈনিকদের নিয়োগ দিচ্ছে। এ শিশুদের এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেন তারা ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের লাকড়ি।


সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েকটি সেনা ইউনিটের অন্তত ৪০ শতাংশ শিশুর বয়স ১৪ বছরের মতো হবে বলে এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

ইয়েমেন থেকে সুদানে ফিরে যাওয়া সেনাদের নিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে অন্তত ১৪ হাজার সুদানি যুদ্ধ করছেন। যাদের অধিকাংশই দারফুর থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, দারফুরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধে তিন লাখের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১২ লাখ লোককে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

দারফুরে এমন কিছু পরিবার আছে, যারা ইয়েমেন যুদ্ধ তাদের সন্তানদের পাঠাতে মিলিশিয়া কর্মকর্তাদের ঘুষ দিচ্ছে। ইয়েমেন থেকে ফিরে আসা পাঁচ যোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

তারা জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ইউনিটের এক পঞ্চমাংশ সেনার বয়স ১৪ বছর হবে। দুই সেনা বলেন, এটি এসব ইউনিটের মোট সেনার ৪০ শতাংশের মতো হবে।

সৌদির হয়ে ভাড়াখাটা সুদানি সেনারা যুদ্ধে অপচয়যোগ্য বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। সৌদি ও আমিরাত কর্মকর্তারা রেডিও হেডসেটস বা জিপিএসের মাধ্যমে তাদের নির্দেশনা দেন। এসব শিশু সেনাদের সম্মুখ সারিতে রেখে নিজেরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন।

যুদ্ধফেরত শিশু সেনা আহমেদ বলেন, তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়, যেন তারা যুদ্ধে মাঠের লাকড়ি। সরকারের প্রতিশোধের ভয়ে আহমেদ নিজের পুরো নাম বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির এ যুদ্ধ অনেকটা ভাড়াটে সৈনিকদের ওপর নির্ভরশীল। যাদের মধ্যে সাবেক মার্কিন সৈনিকরাও রয়েছেন।

কিন্তু মার্কিনিরা সস্তা না হওয়ায় দারফুর থেকে সহজেই শিশুদের ভাড়া করতে পারে সৌদি জোট। তবে এসব শিশুর অধিকাংশই জানজাওয়েদ সম্প্রদায়ের। দারফুর যুদ্ধে তাদের নৃশংসতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

পরিকল্পিত ধর্ষণ, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও গণহত্যার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক হাফিজ ইসমাইল মোহাম্মদ বলেন, সুদানে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাই তারা ইয়েমেনে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে। আমরা পণ্যের মতো শিশুদের অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধের মাঠে পাঠাচ্ছি।

সুদানেও অর্থনৈতিক বিপর্যয় চলছে। দেশটিতে যেখানে একজন দক্ষ চিকিৎসক মাসে সর্বোচ্চ পাঁচশ ডলার আয় করতে পারেন, সেখানে একজন শিক্ষানবিশ যোদ্ধা মাসে সাড়ে ছয়শ ডলারের বিনিময়ে ভাড়া খাটতে যান। ছয় মাস দায়িত্ব পালন করলে তাদের এক হাজার ডলার বোনাস দেয়া হয়।

সৌদি আরবের এক সামরিক মুখপাত্র শিশু সৈনিক ভাড়া করার এ খবর নাকচ করে দিয়েছেন। সুদানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও এমন অভিযোগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, সুদান কেবল আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য লড়াই করে।

bottom