Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

কুষ্টিয়ায় আলোচিত ৮ মাসের শিশু আকিফা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামির নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বাসচালককে হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কাদেরী আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৭ এপ্রিল আমলি আদালতে অভিযোগপত্র তোলার তারিখ ধার্য করা হয়েছে।


তবে দুই আসামিকে বাদ দিয়ে এই অভিযোগপত্র নিয়ে হতাশ মামলার বাদী। অভিযোগপত্রের বিষয়ে মামলার বাদী শিশু আকিফার বাবা হারুন অর রশিদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, "চার্জশিট ক্যামবা কী করল কিছুই জানিনে। আমাকে জানানোও হয়নি। চার্জশিট দেবে আমাকে জানাবে না, সই–স্বাক্ষর নেবে না? আর দুজন আসামিকে কেন বাদ দেবে, বাদ দেওয়ার জন্য কি আসামি করা হয়েছিল?"

ফয়সাল গঞ্জেরাজ নামের একটি বাস গত বছরের ২৮ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড় এলাকায় শিশু আকিফাসহ তাঁর মাকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে আকিফা গুরুতর আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় আকিফার বাবা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বাসচালক খোকন মিয়া ওরফে মহিদ মিয়া, মালিক জয়নাল আবেদীন ও সুপারভাইজার ইউনুচ আলীকে আসামি করা হয়। বাসের ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্য সেখানকার সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাসমালিক জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে র‌্যাব। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে একই সময়ে চালক মহিদ মিয়া আত্মসমর্পণ করেন। এরপর দুজনের আইনজীবী আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন দেন।

পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী মামলাটি ৩০২ ধারায় সংযোজন করার জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আবেদনটি আদালত মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালতের উপপরিদর্শক আজহার আলী বাসমালিক ও চালকের জামিন আদেশ বাতিলের আবেদন করলে আদালত তাঁদের জামিন আদেশ বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব আবারও মহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে দেয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মহিদ। বর্তমানে তিনি কারাগারেই আছেন।

অভিযোগপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, তদন্তে গোপনে ও প্রকাশ্যে বাদীর সাক্ষ্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, বিআরটিএ প্রতিবেদন, জব্দ করা আলামত ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা দেখা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এজাহারভুক্ত দুই আসামির জন্য অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বাসচালক মহিদ মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে বলা হয়েছে, সুপারভাইজার ইউনুচ আলী যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং বাসমালিক বাড়িতে ছিলেন। এ জন্য ঘটনার সঙ্গে তাঁদের জড়িত থাকার কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে দেখা গেছে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্যে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সার্বিক তদন্তে শিশু আকিফা ও তাঁর মা রিনা খাতুন রাস্তা পার হওয়ার সময় তাদের দেখা সত্ত্বেও মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি খোকন মিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে পেছন থেকে মা-মেয়েকে সজোরে ধাক্কা দেন।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন কাদেরী প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় বাসের মালিক ও সুপারভাইজারের জন্য মামলা থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। বাসচালকের বিরুদ্ধে ২৭৯/৩৩৭/৩০২ পেনাল কোডে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বাদীকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।

 

bottom