Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

পুরান ঢাকার অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চলছে নানা মহলে অসৎ বাণিজ্য। নতুন প্রতিষ্ঠানের অনুমতি বন্ধ থাকলেও সংশ্নিষ্ট দপ্তরগুলোর অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বাড়ছে কেমিক্যাল, প্রসাধনী ও প্লাস্টিকের কারবার। এর পেছনে লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বিনিময়ে সুযোগ নিয়ে সেখানে অনিয়ম করে চলছে গুদাম ও বিভিন্ন কারখানা। ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রক্রিয়ায় হঠাৎ অসতর্কতায় ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন প্রাণ হারান। গতকাল পর্যন্ত ৪৮ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৯টি লাশের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।


Hostens.com - A home for your website

এর পরও থেমে নেই অবৈধ কেমিক্যালের কারবার। কবে ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরান ঢাকা থেকে ’মানব বোমা’ খ্যাত কেমিক্যালের অবৈধ গোডাউন সরবে- এটা জানা নেই কারও। কারণ অতীতে একাধিকবার গোডউন সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত তা ফলপ্রসূ হয়নি। সেখানে মূলত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে আছে এখনও। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে চুড়িহাট্টা ও নিমতলী ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে আবারও।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসা চলছে পুরান ঢাকায়। আর প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এটি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। এ থেকে অর্জিত ’লাভের গুড়’ যাচ্ছে অনেকের পকেটেই।

যখনই পুরান ঢাকায় বড় ধরনের বিস্ম্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তখন নড়েচড়ে বসে সরকারি সংশ্নিষ্ট দপ্তরগুলো। জোরদার করা হয় কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের গুদাম উচ্ছেদ অভিযান। এতে হাঁকডাক পড়ে যায় সবখানে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই থেমে যায় সব পদক্ষেপ। এর পেছনেই চলে আর্থিক লেনদেন। ফলে ব্যবসায়ীরা আগের মতোই আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যান। এতে দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে পুরান ঢাকা। অনিরাপদ ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন সাধারণ বাসিন্দারা। গত কয়েক বছরে পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকের কারণে ১১টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সরেজমিন পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এসব কেমিক্যাল আমদানি থেকে শুরু করে ক্রেতার হাত পর্যন্ত পৌঁছতে অনিয়ম চলছে নানা ধাপে। বন্দরে পণ্য খালাসে মিথ্যা ঘোষণায় আসছে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল। এই পণ্য আনতে পরিবহনগুলোকে দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা, সড়কে ধরা পড়লেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছে টাকার বিনিময়ে। শেষ পর্যন্ত এ ব্যবসা চালাতে মোটা অঙ্কের টাকা দিচ্ছেন অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এই সঙ্গে জড়িত বন্দরের কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পণ্যের মান পরীক্ষায় ল্যাবের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিস্ম্ফোরক পরিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে মিথ্যা ঘোষণায় ছেড়ে দিচ্ছেন এসব কেমিক্যাল। পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ কেউ টাকা নিয়ে দিচ্ছেন ছাড়পত্র। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্স কিংবা ছাড়পত্র ছাড়াই টাকার বিনিময়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু জরিমানা গুনে পার পাচ্ছেন তারা। সূত্র জানিয়েছে, মিথ্যা ঘোষণায় হাজার কোটি টাকার কেমিক্যাল আসছে দেশে, যা কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না।

গতকাল শনিবার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, আরমানিটোলা, নিমতলী, মাজেদ সরদার রোড, চকবাজার, মৌলভীবাজার, রহমতগঞ্জ, হাজী আজগর লেনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কেমিক্যালের গুদাম, দোকান ও নানা ধরনের কারখানা দেখা গেছে। এসব গুদাম ও দোকানে রয়েছে থিনার, গ্লিসারিন, সোডিয়াম অ্যানহাইড্রোস, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সোডিয়াম থায়োসালফেটসহ ভয়ঙ্কর রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ। বাসাবাড়ির নিচে প্লাস্টিক দানা ও পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে শিল্প এলাকার মতো।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নিমতলী হয়ে মাজেদ সরদার রোডে ঢুকে দেখা যায়, দুই পাশের প্রায় সব বাড়ির নিচতলায় বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা। এর ওপরে মানুষের বসবাস। মাজেদ সরদার রোডের মাফিয়া নিবাসের বিপরীতে চারতলা বাড়ির নিচতলায় ঢুকে দেখা যায়, বিশাল একটি কারখানা। বাইরে থেকে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই, আবাসিক এই ভবনের নিচে একটি বড় কারখানা থাকতে পারে। সেখানকার এক কর্মচারী জানালেন, প্লাস্টিকের গামলা, বালতিসহ গৃহস্থালির পণ্য তৈরি করা হয় এখানে। দুই থেকে চারতলা পর্যন্ত মানুষ বসবাস করে। মানুষের যাতায়াতও কারখানার ভেতর দিয়ে। কারখানার কর্মচারী নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তার সঙ্গে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যে ওপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে এক ব্যক্তিকে নিচে নেমে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। দ্রুত তার পিছু নিয়ে কাছে গিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এ বাড়িতেই তিনি থাকেন কি-না। জানালেন, তিনি এই বাড়ির ভাড়াটে। পরিবার নিয়ে কারখানার ওপর বসবাস করা কতটুকু নিরাপদ- এমন প্রশ্ন শুনে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তিনি। বললেন, ’পুরান ঢাকায় এমন কোনো বাড়ি আছে, যেখানে কারখানা বা গুদাম নেই? প্রায় সব বাড়ির নিচতলায় কোনো না কোনো কারখানা রয়েছে। এক ফ্ল্যাটে মানুষ বাস করছে, সেটার পাশের ফ্ল্যাটে কেমিক্যাল গুদাম থাকার ঘটনাও অহরহ।’

মাজেদ সরদার রোডের ৬৫ নম্বর টিনশেডের গেটটি ভেজানো ছিল। ১২টা ২০ মিনিটে সেটি ঠেলা দিতেই খুলে যায়। এর পরই ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটি কারখানা। তখন প্লাস্টিক দানা তৈরি করা হচ্ছিল। একজন কর্মচারী জানালেন, দুটি কারখানার মালিক দু’জন। এখানে প্লাস্টিকের দানা তৈরি করা হয়। এর কাঁচামাল রাখা হয় পাশের গোডাউনে। সেখান থেকে বেরিয়ে মাজেদ সরদার রোড ধরে সামনে এগোলে দানা ও প্লাস্টিক পণ্য তৈরির একাধিক কারখানা চোখে পড়ে।

আরমানিটোলায় গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকার সড়কের পাশের অধিকাংশ আবাসিক ভবনের নিচে কেমিক্যালের মার্কেট। আর অলিগলির ভেতরের ভবনের নিচে তার গুদাম। মার্কেটের দোকানগুলোতে থরেথরে সাজানো হয়েছে ড্রাম ও বস্তা। এর ওপরই বাস করছে মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও যেন দেখার নেই কেউ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ’চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের কয়েকদিন আগেই পুরান ঢাকার সব কেমিক্যাল গুদাম অপসারণের অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এখনও যেসব বাড়ির মালিকরা কেমিক্যাল গুদাম অপসারণের উদ্যোগ নেননি, সেসব বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, ’২০১৩ সালের পর থেকে নতুন করে কেমিক্যাল ব্যবসার লাইসেন্স সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া হয় না। এর পর যত কেমিক্যাল ব্যবসা শুরু হয়েছে, তার সবই অবৈধ।’

বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্যানুযায়ী, প্লাস্টিক ও কেমিক্যালের শিল্পে সারাদেশে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। দেশের সব শিল্পে কম বেশি প্লাস্টিক ও কেমিক্যালের ব্যবহার রয়েছে। ওষুধ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ খাদ্যবহির্ভূত শিল্পেও এর ব্যবহার কম নয়। পুরান ঢাকা থেকে বড় প্লাস্টিক শিল্প স্থানান্তরিত হলেও এখনও প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র শিল্প যেনতেনভাবে চলছে। কেমিক্যালের গোডাউন ও পাইকারি ব্যবসার বেশিরভাগ অংশ ঢাকায়। তবে পুরান ঢাকার বৈধ ব্যবসায়ীরা অনেকে গাজীপুর, সাভার, শ্যামপুর, ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা স্থানান্তর করেছেন। ২৯টি দাহ্য কেমিক্যালের ব্যবসায় পুরান ঢাকায় কিছু ব্যবসায়ী বৈধভাবে ব্যবসা করলেও বেশিরভাগই এখন অবৈধভাবে করছেন। আর যারা পুরান ঢাকার বাইরে গেছেন, তারা এখানও পরিকল্পিতভাবে সবকিছু করতে পারেননি। এ জন্য কেমিক্যালপল্লীতে যেতে চান ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বৈধ প্রায় এক হাজার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রয়েছেন। সব মিলিয়ে বৈধ পরিমাণের সমান প্রায় এক হাজার অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী টাকার বিনিময়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসিডের ব্যবসায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক বছরে ২০-২২ হাজার কোটি টাকার কেমিক্যালের ব্যবসা হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান। সংশ্নিষ্ট সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের মতে, অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে বছরে বাণিজ্য হচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিভিন্ন সময় জঙ্গিরা পুরান ঢাকার অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা থেকে গোপনে বিস্ম্ফোরক সংগ্রহ করে বোমা তৈরি করেছে।

এফবিসিসিআইর কেমিক্যাল বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ’বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আসছে। বন্দরের ল্যাব পরীক্ষায় সঠিক তথ্য দিয়ে পণ্য আনলে এমন বিপর্যয় হতো না। প্রকৃত কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা অবৈধ কারবারে সম্পৃক্ত নয়। অনেকে অসৎ পথে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স নিয়েই অবৈধ কারবার করছে। আবার অনেকে অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মাধ্যমে অনিয়ম হওয়ায় এই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমদানির মতো উৎস পর্যায়ে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হলে যত্রতত্র অবৈধ মাল বিক্রি বন্ধ হবে। এমন দুর্ঘটনায়ও বারবার পড়তে হবে না। যারা বৈধভাবে ব্যবসা করেন, তারা অতিরিক্ত ঝুঁকি নেন না। তারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন। অগ্নিকাণ্ড যেখানে হয়েছে, সেখানে তো গোডাউন আছে। এর আশপাশে অনেক গোডাউন ও কারখানা রয়েছে। এগুলো দ্রুত সরানো উচিত।

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পরে পুরান ঢাকা থেকে সব গুদাম ও দোকান সরানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর পরে ব্যবসায়ীদের গড়িমসির কারণে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে পুরান ঢাকায় অভিযান শুরু হলে টনক নড়ে ব্যবসায়ীদের। তখন দুর্ঘটনা এড়াতে কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউন স্থানান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেন। এর পরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন- বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পেইন্ট অ্যান্ড ডাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ এসিড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। এই তিন সংগঠনের সব গুদাম ও কারখানা স্থানান্তরের পরিকল্পনায় ৯০০ প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিসিক কেমিক্যালপল্লীর প্রকল্প পরিচালক সাইফুল আলম বলেন, ’পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরদের সংগঠনগুলোর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ৯০০ প্রতিষ্ঠান ছিল। এই হিসাবে পরিকল্পনা করে পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বিস্ম্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, ’সম্প্রতি ২৯টি কেমিক্যালের তালিকা সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। এসব কেমিক্যালে আগুনের ছোঁয়া পেলে বড় ধরনের বিস্ম্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটবে। পুরান ঢাকায় এসব কেমিক্যালের গুদাম অপসারণের জন্যই এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে কোনো দাহ্য পদার্থ যেন না থাকে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেবে সিটি করপোরেশন।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ’সব কেমিক্যাল বিপজ্জনক। এটি কোনোভাবেই আবাসিক এলাকায় গুদামজাত থাকার কথা নয়। এসব গুদাম অপসারণে মানুষকে সচেতন হতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ’২০১০ সালে নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর সরকারের সংশ্নিষ্ট সবাই নড়েচড়ে বসেছিল। কিন্তু গত আট বছরে গুদাম সরানোর বিষয়ে চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom