Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

আমার ফ্রিল্যান্সার হয়ে ওঠা অনেকটা কাকতালীয়। কখনও ভাবিনি এটি আমার জীবনের একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে ও নিজেকে নতুন ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করবে। সবচেয়ে অবাক ও রোমাঞ্চিত হলাম, যখন জানতে পারলাম প্রিয়.কম ফ্রিল্যান্সারদের সাফল্য ও সম্ভাবনাগুলো প্রকাশের একটি সুযোগ সৃষ্টি করে দিল। এটি সন্দেহাতীতভাবে একটি ভালো উদ্যোগ,আর এর মাধ্যমে আমরা যেমন নিজেদের অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করতে পারবো, তদ্রুপ নতুনদের অনেকের আগামীতে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্ন বা ভিত্তি তৈরি এখান থেকে শুরু হবে।


আমি এই পর্যন্ত freelancer.com/elance.com(প্রোফাইল-BDspeed)এর মাধ্যমে ৪০০টিরও অধিক প্রজেক্ট কম্প্লিট করেছি যার মধ্যে একটিও ইনকম্প্লিট বা বেড রিভিউ নেই এবং অর্জিত ২৫৬টি রিভিউর প্রতিটি দেশের বাইরের দরদাতাদের কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে পাওয়া।কিন্তু গত ১ বছর যাবত আমি ফ্রিল্যান্স সাইটের মাধ্যমে কোনো কাজ নিচ্ছি না, এর কারণ দেশের বাইরে ২-৩টি প্রতিষ্ঠানের হয়ে আমি ও আমার টিম কাজ করছে।আমার এই ফ্রিল্যান্সার হওয়ার চিত্রটা আপনাদের সামনে অল্পবিস্তর তুলে ধরার চেষ্টা করব। আমি প্রনব ভট্টাচার্য্য। একটি তৈরী পোশাক শিল্পে কর্মরত (ফ্যাশন ডিজাইনের সফটওয়ার পরিচালনা)থাকার পাশাপাশি ২০০৯ সালের শুরু থেকে freelancer.com এর মধ্য দিয়ে আমার এই জগতে প্রবেশ, পরবর্তীকালে elance.com (প্রোফাইল- BDspeed)এর মাধ্যমেও অনেক প্রজেক্ট সম্পন্ন করি। আজ আমি একজন পূর্ণাঙ্গ ফ্রিল্যান্সার, আর এটি বলার কারণ যেদিন লেখাটি লিখতে বসলাম তার পূর্বদিন হতে আমি সময়ের বাধাধরা কর্মজীবন থেকে ইস্তফা দিয়ে আসলাম। এখন আমি একজন মুক্ত পেশাজীবী এবং নিকট ভবিষ্যতে নিজেকে একজন Entreprenuer হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় রাখি।কঠোর পরিশ্রম,সততা,একনিষ্ঠতা,ধৈর্য্য আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আমার ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার মূল চালিকাশক্তি।সারাদিন অফিস করে আসার পর রাত ২-৩টা, এমনকি কখনও ভোর পর্যন্ত কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করে যেতাম, সারাদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত শরীরকে ৩-৪ ঘন্টা ঘুম দিয়ে আবার অফিস মুখে ছুটে চলা।তাই নিত্যদিন অফিস লেট করা একসময় লজ্জা থেকে অভ্যাসে পরিণত হল।তাই বলে এটা ভাবার কোন অবকাশ ছিল না নিজের অফিসের কাজ অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছি, কারণ আমি অফিসের যে কাজটির সাথে যুক্ত ছিলাম তা আমি ছাড়া অন্য কারও পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।কিন্তু এটা স্বীকার করতে আমার আপত্তি নেই যে, প্রাইভেট কোম্পানীতে কাজের বাইরেও কিছু বিষয় পালন করতে হয় যা প্রতিষ্ঠান পরিচালকরা একান্তভাবে আশা করে।যা আমি করতে পারিনি বা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি।করতে পারলে আমি হয়তো মোটা বেতনের কর্মজীবী হিসেবে থাকতাম, কিন্তু মুক্ত পেশাজীবী (ফ্রিল্যান্সার)হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা কখনও সম্ভব ছিল না।নতুনদের জেনে রাখা ভাল এই পেশায় একনিষ্ঠভাবে কাজ করে প্রতিষ্ঠা লাভ করা সম্ভব,যদি না স্বপ্ন দেখা আর বুনার মাঝে কোন গরমিল না থাকে। যেভাবে শুরু নেটে সার্ফিং করা আমার একটি অভ্যাস বা বদ-অভ্যাস দুটোই বলা যায়।আউটসোর্সিং এর উপর বিভিন্ন লেখা পড়ে প্রথম আগ্রহ এবং সেই সুবাদে খুঁজে পাই GetAFreelancer নামের সাইটটি।পরবর্তীকালে এটি freelancer.com নামে আত্মপ্রকাশ করে।বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্স সাইট হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত আরও ৩-৪টি ফ্রিল্যান্স সাইটকে(Scriptlance/vWorker/EUfreelancer)একিভূত করে নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি করে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।এই সাইটের মাধ্যমে প্রথমে একটি প্রোফাইল তৈরি করে কাজের জন্য বিডিং শুরু করি।কিন্তু কোনরকম অগ্রগতি দেখতে না পেয়ে হতাশ হলাম।এরপর ঠিক করলাম নিজের প্রোফাইল আপডেট, কাজের ধরণ আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অর্থবহ করে, পরে কাজের জন্য আবেদন করব।যেই বলা সেই কাজ, আমি যে সব কাজে পারদর্শী বা করতে পারব বলে আশা রাখি প্রথমে সেই ক্যাটাগরিগুলো বাছাই করলাম প্রোফাইল থেকে।এরপর শুধু সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত প্রজেক্টগুলোতে বিড করা শুরু করলাম।এর পর কিছুটা সাড়া পেতে শুরু করলাম। কিন্তু তার বেশিরভাগ ছিল ফেক বা ভুয়া প্রজেক্ট, বিড করা প্রজেক্টগুলো থেকে যখন প্রজেক্ট ক্রিয়েটর রিপ্লাই দেয়,দেখা যায় যে, যে বিষয়ে কাজ করাবে বলে দরপত্র খুলল, তার সাথে পাঠানো রিপ্লাই এর কোন সামঞ্জস্যতা নেই। চটকদার বিজ্ঞাপনের মত কিছু লেখা থাকতো সাথে থাকত কিছু লিংক, লেখা থাকত ‘লিংকটিতে ঘুরে আসুন আর ঘরে বসে আয় করুন লাখ টাকা‘। আমি আগে থেকে এই বিষয়গুলো জানতাম বলে এর পেছনে সময় নষ্ট করিনি বা কখনও নিজের অজান্তেও এইসব লিংকে ঢুকিনি। হয়তো আমার ভাগ্যে লাখ টাকা লেখা ছিল না।সাধারণত এডসেন্স সাইটকে জনপ্রিয় বা ভিউয়ার বাড়ানোর জন্য এই সকল ফেক প্রজেক্টগুলো খোলা হত।যাই হোক, এর পর বিড করার পূর্বে প্রজেক্ট ক্রিয়েটর এর প্রোফাইল দেখতাম আর দরপত্রের বিষয়বস্তু দেখে বিড করতাম।আমি এত কিছু করছি তারপরও ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না দেখে হাল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই । ঠিক তখনি মনে পড়লো আমিতো একটি বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু বিড করে যাচ্ছি।আর সেটি হল প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট একটি ভালো মানের স্যাম্পল।শুধু কাজটা আমাকে দাও, আমাকে দাও বললে তো কেউ কাজ দিবে ভাবাটা একটু বোকামির।অবশেষে যে প্রজেক্টগুলোতে বিড করতাম, সময় নিয়ে তার একটি স্যাম্পলও জমা দিতাম । 

যার ফলশ্রুতিতে অল্পদিনের মধ্যে প্রথম কাজটি পেলাম । যদিও প্রথম কাজগুলো ছিল আমার অভিজ্ঞতার ঠিক বিপরীতে, যা থেকে আমি আস্তে আস্তে নিজের ট্রাকে ফিরে আসলাম । তাই নতুন যারা ফ্রিল্যান্স কাজের সাথে নিজেদের যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, তারা যেন বিষয়বস্তু ও দরপত্র প্রদানকারীর প্রোফাইল দেখে তারপর বিড করে।ফ্রিল্যান্সার.কম বিভিন্ন সুবিধা সম্বলিত প্রোফাইল সিস্টেম তৈরি করেছে যাতে একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার খুব সহজে ফেক আই.ডি আর প্রোজেক্ট সম্পর্কে জানতে পারবে।এরপরও বলে রাখা ভাল, এই সব সাইটে এখনো প্রচুর পরিমাণ ফেক প্রজেক্ট ক্রিয়েট হয় যা নতুনদের কিছুটা বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলবে। প্রথম কাজ পাওয়ার পর থেকে মনের মধ্যে একটি স্বপ্নের আকার সৃষ্টি হলো,যা বুননের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি আজ অবদি।ফ্রিল্যান্স কাজের একটি বড় দিক হলো সবসময় আপডেট থাকা, প্রতিনিয়ত ইমেইল চেক, কাজের অবস্তা সম্পর্কে দর দাতাকে অবহিত করা এবং সময় মত ভুল-ত্রুটি বর্জিত কাজটি প্রদান করা।এইক্ষেত্রে রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।বিশেষ করে আমরা যখন জানি বেশির ভাগ কাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী সহ প্রভৃতি দরদাতাদের মাধ্যমে আসে, সেই ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধানের কারণে দেখা যায় দরদাতার বেশিরভাগ ইমেইলগুলো বিকেল থেকে মধ্যরাত, এমনকি ভোর বেলায় পেয়ে থাকি।এই ক্ষেত্রে আমরা যদি কোনো রিপ্লাই দিতে বেশি সময় নিয়ে ফেলি তখন দরদাতা কিছুটা বিচলিত হয়ে আরও তাগাদা পাঠাতে থাকে।আর যদি কোন দরদাতা অনেকদিন ধরে ফ্রিল্যান্সের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিচ্ছে সেই ক্ষেত্রে ভিন্ন।কিন্তু নতুন দরদাতার কাজ যতটা সম্ভব নিখুঁত এবং যথাসময়ে দিতে হবে। যার ফল হল পরবর্তীতে তার কোন নতুন কাজ থাকলে সে আমাকে খুঁজবে।এক্ষেত্রে নিজের কাছে সবসময় কাজ থাকবে আর নতুন কাজ খোঁজার চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়।আর সবচাইতে যে বিষয়টি আমি মাথায় রেখেছি আমার নিজের ক্ষেত্রে,যে কাজটি আমার পক্ষে করা সম্ভব হবেনা সেই কাজটি না নেয়া।কারণ আমি যদি কাজটি নিজে বা আর কারও মাধ্যমে করিয়ে দিতে না পারি তাহলে দরদাতা আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।ভাবছেন কিভাবে? আমি যে সাইটের মাধ্যমে কাজ করছি (freelancer.com) এখানে সময় মত বা সঠিকভাবে কাজ দিতে না পারলে দরদাতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে, ইনকম্প্লিট প্রজেক্ট রিভিউ এবং আমাকে দেয়া পারিশ্রমিকও সে ফিরিয়ে নিতে পারবে।এক্ষেত্রে আমার প্রোফাইলে সবসময়ের জন্য একটি রিভিউ থাকবে, আমি কাজটি নিয়ে ঠিকভাবে করতে পারিনি বা তার কাজ নেয়ার পর আমি কিভাবে গরিমসি করলাম । এই বেড রিভিউ পরবর্তী কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্তরায় হিসেবে দেখা দেবে।নতুন কেউ কাজ দেয়ার সময় চিন্তা করবে আপনি আদৌ কাজটি করতে পারবেন, নাকি পূর্ববর্তী প্রজেক্টএর মত এটাও করতে পারবেন না ।
এ ছাড়া প্রজেক্ট কম্প্লিট হলে প্রাপ্ত রেটিং পদ্ধতি, যেটি পরবর্তীতে কাজ পেতে সহযোগিতা করবে । রেটিং পদ্ধতি সাধারণত কাজের মান, সময়,কাজ সম্পর্কে দরদাতাকে সব সময় আপডেট রাখার উপর নির্ভর করে। এর প্রতিটির জন্য আলাদা স্টার মার্ক (সবচেয়ে কম ১ হতে সর্বোচ্চ ৫) নির্ধারণ করা থাকে। আমার কাজের ধরণ আমি প্রথম দিকে শুধু ডেটা এন্ট্রির আর এক্সেল সম্পর্কিত প্রজেক্টগুলো নিয়ে কাজ শুরু করলেও,সময়ের সাথে সাথে তা বিস্তৃতি লাভ করে।পরবর্তীতে এর সাথে যুক্ত হয় ওয়েব রিসার্চ,ডাটা প্রসেসিং,গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ আরো বিভিন্ন ক্যাটাগরি।তবে সবগুলো একসাথে শুরু না করে আস্তে আস্তে এগোতে থাকি যাতে মাঝপথে আমার থেমে যেতে না হয়।যখন কাজের জন ফ্রিল্যান্স এর সাইটগুলোতে বিড করতাম, আমি চাইতাম সবার আগেই প্রজেক্ট সম্পর্কিত আমার স্যাম্পল কিভাবে জমা দেয়া যায়।এতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা যেমন সৃষ্টি হয় তদ্রুপ নিজেও কাজটি সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা লাভ করি।তাই রাতের পর রাত জেগে বিড করে কাজের সন্ধান করতাম।একসময় দেখলাম অফিসের কাজ আর ফ্রিল্যান্স কাজ একসাথে করে পেরে উঠছিনা,আর তখন তৈরি করলাম নিজের একটি টিম।বর্তমানে আমার সাথে ৭-৮ জনের পার্টটাইম একটি টিম আছে যারা দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে যুক্ত।সবচাইতে মজার বিষয় হলো আমার টিমের এক জন হল আমার বড় বোন।অবাক হই যখন সংসারের সব কাজ করার পরও আমার কাজগুলো ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করে।মাঝে মধ্যে কাজের কারণে তাকে তিক্ত বাক্যবানে আঘাত করলেও পরক্ষণে লজ্জিত হই এইভেবে যে,সে তো চেষ্টা করছে তার শত কাজের মাঝে, যেটা আমি হলে পারতাম না।আমি আজ যতটুকু ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পেরেছি তার একটি অন্যতম কারণ আমি কখনও মিথ্যা বা অযুহাতের আশ্রয় নেইনি কোনো কাজ সম্পাদনের আগে ও পরে।আর চেষ্টা করেছি নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই কাজটি নির্ভুলভাবে জমা দিতে।এর ফল আমি পেয়েছি।আমি একই দরদাতার একাধিক প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছি বা করে যাচ্ছি, যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ ১ বছর আমি তেমন কোন নতুন কাজ নেইনি।

freelancer.com/elance.com এ বিভিন্ন কাজের ইনভাইট পেলেও আমার পক্ষে তা অনেক সময় গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। প্রাপ্তি পাঠকদের কাছে আমি ফ্রিল্যান্স কাজ করে অর্জিত অর্থের বিষয়টি শেয়ার করছি না।আমি মনে করি সেটি তেমন জরুরী বিষয় নয়।অনেকে শুধু টাকা উপার্জনের বিষয়টি মাথায় রেখে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখে বা এইভাবে মূল্যায়ন করে থাকে যা কোনভাবে কাম্য নয়। নতুনরা যদি এই চিন্তা নিয়ে কাজ করতে বসে তাহলে তারা অল্পদিনে হতাশ হবে বা এই জগৎ সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারনা পোষণ করবে।আমি মূলত মুক্ত পেশাজীবী হওয়ার প্রয়াসে এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি।
যেমন একটি পাখিকে সোনার খাঁচায় রেখে যতই দামী খাবারের ব্যবস্থা করা হোক না কেন, খাঁচার দরজা ফাঁক হলেই সে সবকিছু ত্যাগ করে তার মুক্ত জীবনে ফিরে যাবে।তদ্রুপ এটিও একটি স্বাধীন কাজ যার মাধ্যমে কারও অধীনে না থেকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।এর পক্ষে বিপক্ষে নানা মত থাকতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক।আমি আমার ধারণাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।তবে এটি বলার অবকাশ রাখে না, এটি ব্যক্তির ভালো উপার্জনের বিরাট সহায়ক।এর একটি ছোট উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।আমার এক ছোটো ভাই (শুভ) ৫-৬মাস সময় নিয়ে আমার একটি ফটোশপের বিশাল কাজ নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করেছে এবং এর মাধ্যমে আমার নিকট যে টাকাটা অর্জন করেছে তা দিয়ে সে তার স্বপ্ন পূরণ করেছে।সে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে Canon(60D) এর একটি উন্নতমানের ক্যামেরা সংগ্রহ করে ফটোগ্রাফির কাজ শুরু করে এবং নিকট ভবিষ্যতে সে একজন প্রথম সারির ফটোগ্রাফার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে আশা রাখি।আমি চেষ্টা করি আমার চারপাশের মানুষগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদের ভাগ্যের কিছুটা পরিবর্তন করতে।এটি মহৎ উদ্যোগ নয়।এটা সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।এবার আমার নিজের দুটি অতি ক্ষুদ্র প্রাপ্তি সম্পর্কে আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। এর একটি হল freelancer.com এ নিজের আইডিয়া(জাতীয় পতাকার লোগো সংজোযন)দিয়ে অর্থ প্রাপ্তি এবং সাথে পেয়েছি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন।
যারা freelancer.com এ কাজ করে তারা সবাই জানে বা নতুনরা দেখবেন প্রতিটি ইউজার এর প্রোফাইলের সাথে স্ব-স্ব দেশের জাতীয় পতাকার লোগো প্রদর্শিত হয়।এতে আমরা সহজেই বুঝতে পারি কোন দেশ থেকে দরপত্র খোলা হল এবং সবচাইতে মজার বিষয় হল অনেকে নিজেদের মধ্য দিয়ে প্রজেক্ট ক্রিয়েট করে টাকার লেনদেন করে রিভিউ অর্জন করত।বিশেষ করে ভারতীয় ইউজাররা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশেরও কিছু ফ্রিল্যান্সার এই কাজটি করত।কারণ আগে আমরা বুঝতে পারতাম না কে কোন দেশ থেকে প্রজেক্ট ক্রিয়েট করছে।যেদিন থেকে দেশের পতাকা সম্বলিত লোগো চালু হলো দেখা গেল একজন ভারতীয় ইউজার ১০০ প্রজেক্ট কম্প্লিট করলো যার ৭০টি নিজের দেশের একটি ইউজার প্রোফাইল থেকে ক্রিয়েট করা।তারা শুধু নিজেদের মধ্যে টাকার বিনিময় করলো কোনরূপ কাজ ছাড়াই, শুধু রিভিউ প্রাপ্তির আশায়।এখন সেটি অনেকাংশে রোধ করা গেছে বা কোন প্রজেক্ট ক্রিয়েটর তাদের প্রজেক্ট দিতে আগ্রহ দেখায় না, যারা শুধু মাত্র নিজ দেশের লোকের সাথে কাজ করে রিভিউ অর্জন করেছে।এটা স্বাভাবিক যে আমি যদি আমার দেশের কোনো লোকের কাজ করি কেন আমি সেই টাকা ফ্রিল্যান্সের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে নিব? যেখানে কোন ফি বা কমিশন ছাড়াই আমার দেশেই সে অর্থ প্রাপ্তির সুবিধা রয়েছে। তাহলে বুঝতেই পারছেন ফাঁকিবাজিটা কোন জায়গায়?
আমার দ্বিতীয় প্রাপ্তিটা আরো ছোট।আপনাদের জানাতে দ্বিধাবোধ থাকলেও শেয়ার না করে পারলাম না।হয়তো এটি নতুনদের বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করার ব্যাপারে কিছুটা ভূমিকা রাখবে।আমি একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘ ২ বছর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছিলাম।যার ফলশ্রুতিতে গত বছর এই সময় তারা আমাকে একটি মোবাইল ফোন গিফ্‌ট করে। তাদের দেয়া iPhone-4S সেলফোনটি আমার নিত্যদিনের সাথী,যা দিয়ে আমি অনেক কাজ কম্পিউটার ছাড়া সম্পাদন করতে পারি। বিব্রতবোধ এবং অভিজ্ঞতা আমি দেশের একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের মাধ্যমে আমার অর্জিত টাকাগুলো আনতাম।কিন্তু বিপত্তি ঘটল যখন Moneybookers(বিশ্বের অন্যতম অনলাইন মানি ট্রান্সফার কোম্পানী)এর মাধ্যমে ৩-৪ বার অর্থ ট্রান্সফার করে দেশে আনার পর হঠাৎ করে তারা পরবর্তী ট্রান্সফারটা আটকে দিল।তারা আমার কাছে পাঠানো পূর্বের টাকাটা ব্যাংকের যে একাউন্টে ঢুকলো তার একটি যাচাই পত্র (অনস্ক্রিন ব্যাংক স্টেটম্যানট) দিতে বলে।যেহেতু এই ধরনের সমস্যায় প্রথম পড়লাম তাই কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম।যাই হোক, ব্যাংকের দ্বারস্থ হলাম,কিন্তু সাপোর্ট ডেস্ক বা ফরেন ডেস্ক কোনো হেল্প করতে না পারাই এক রকম বাধ্য হয়ে ম্যানেজার এর শরণাপন্ন হলাম।তাকে নিজের সমস্যা সম্বলিত Moneybookers থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র দেখিয়ে বিষয়টি খুলে বললাম এবং সাহায্যের জন্য আবেদন করলাম।এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাকে যা বললেন তা অনাকাঙ্খিত এবং অবিচার বললে ভুল বলা হবে না।উনি বললেন আমি ভিওআইপি’র ব্যবসা করি এবং মানিলন্ডারিং এর মত অবৈধ কাজের সাথে যুক্ত এবং আরো বললেন উনি Paypal বা Moneybookers জাতীয় কোন অনলাইন প্রতিষ্ঠানের নাম শুনেননি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া এবং আমার কার্যকলাপ অবৈধ।আমি শুধু বললাম, আমার টাকাটা যদি অবৈধ হতো তাহলে একটি ব্যাংকের একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাছে আসার সাহস দেখাতাম না।আর আপনারা প্রকৃত অপরাধী সনাক্ত করা দূরের কথা, অপরাধীদের সাথে কিছু বলতেও পারেন না।কারণ তাদের পোশাকি চেহারা আপনাদের কাছে ভদ্রমানুষ হিসেবে গণ্য।আর আমাদের মত যারা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি তাদেরকে সাহায্য করতে আপনাদের যত দ্বিধাবোধ।যাই হোক,সেদিন ব্যাংক এর আরেকজনের হেল্প নিয়ে আমি আমার সমস্যার সমাধান করি।ঘটনাটি মনে পড়লে এখনো ব্যতীত হয়। দায়বদ্ধতা দীর্ঘ ৪ বছর ফ্রিল্যান্স কাজ করার পর চিন্তা করলাম, শুধু নিজে করে গেলে তো হবে না, সাথে যদি বর্তমান যুবক সমাজকে ফ্রিল্যান্স কাজের ব্যাপারে উৎসাহিত করা যায় সেটি হবে একটি ভালো উদ্যোগ।যেই ভাবা সেই কাজ, আর এর জন্য বেছে নিলাম আমার জন্মস্থান চট্টগ্রামের পটিয়াকে(সূর্যসেন, প্রীতিলতা, মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের পদচারণায় যে অঞ্চল বিশ্ব পরিচিত)।
আর আমার এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য freelancer.com এর কাছে কৃতজ্ঞ।পটিয়াতে দীর্ঘদিন প্রচারণা চালিয়ে অবশেষে এলাকার প্রাচীন বিদ্যাপিঠ ‘পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ এ একটি কর্মশালার আয়োজন করি সেখানে ৬০-৭০ জনের উপস্থিতিতে আমি আমার অভিজ্ঞতা এবং কিভাবে কাজ শুরু করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরি প্রজেক্টর এবং freelancer.com এর সরবরাহ করা স্লাইড শোর মাধ্যমে। আর আমার এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি দাশ, ছোট ভাই আবদুর রহমান রুবেল ও আহমদ উল্লাহ র এর নিকট কৃতজ্ঞ। এরা ছাড়া আমার পক্ষে অতি স্বল্প সময়ে একটি ফলপ্রসু অনুষ্ঠান করা এক কথায় অসম্ভব ছিল। সমাপ্তি অবশেষে যেটা বলতে চাই।পরিবারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা ছাড়া আমি আজ এই অবধি আসতে পারতাম কিনা সন্দেহ। তাই তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাই।আজ যারা আমার উপর আস্থা রেখে প্রতিনিয়ত কাজ দিয়ে আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণের জন্য সহযোগিতা করছে তাদের কথা না বললে এক রকম অন্যায় হয়।তাই আমার লেখাটা এবং এর পূর্বাপর সবকিছুর জন্য তাদের নিকট কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি।

bottom