Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

কাবা ঘরের উপর দিয়ে কখনো পাখি- কাবা শরীফ এমন একটা জায়গা যার উপর দিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো পাখি উড়ে যায়নি। দুনিয়ার কোনো বিমানও তার উপর দিয়ে যেতে পারেনি। কুদরতী দৃষ্টিকোণ থেকেও তার অবস্থান এমনই যে তার উপর চন্দ্র ও সূর্যও অবস্থান করতে পারে না। কোরআন এবং বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, গোটা পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু ওই স্থান যেখানে খানায়ে কাবা শরীফ।


মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।

মুসলমানদের কেবলা কাবা শরীফ। প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলমান কাবা ঘর তাওয়াফ করতে মক্কা গমন করেন। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ফেরেশতারা কাবা ঘর নির্মাণ করেন।

কাবা ঘরকে উল্লেখ করে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরান এর ৯৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَالَمِينَ ‘

নিঃসন্দেহে সর্ব প্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।’ (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৯৬)।

কাবা ঘরটি আল্লাহ তায়ারার আরশে মুয়াল্লামার ছায়াতলে সোজাসুজি বাইতুল মামুর আকৃতি অনুসারে স্থাপন করেন। হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.) উভয়েই আল্লাহ তায়ালার কাছে ইবাদাতের জন্য একটি মসজিদের প্রার্থনা করেন।

আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়া কবুল করেন এবং বায়তুল মামুর আকৃতিতে পবিত্র কাবা ঘর স্থাপন করেন। এখানে হজরত আদম (আ.) সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকতেন।

অনেকের মতে মানব সৃষ্টিরও অনেক আগে মহান আল্লাহ তায়ালা কাবাঘর সৃষ্টি করেন। হাফসিরবিদ মাজাহির বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বায়তুল্লাহর স্থানকে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার বছর আগে সৃষ্টি করেন।

মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে হজরত আবুযর গিফারী হতে বর্ণনা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন বিশ্বের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো মসজিদে হারাম। এরপরের মসজিদ হলো মসজিদে আকসা।

মসজিদে হারাম নির্মাণের ৪০ বছর পর মসজিদে আকসা নির্মিত হয়। হজরত আদম আলাইহিস সালাম কাবা ঘর আল্লাহর আদেশে পুনঃনির্মাণ করেন। এরপর বহুদিন অতিক্রম হলো। শত শত বছর অতিবাহিত হলো আল্লাহর বান্দারা কাবাঘর জিয়ারত করতেন।

আল্লাহর কাছে হাজিরা দিত এই কাবা ঘরে সমবেত হয়েই। কাবা ঘরে এসে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও অংশীদার হীনতা ঘোষণা দিত।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক্’-এভাবে চলতে চলতে দিন গত হতে থাকলো। এরপর হজরত শীষ (আ.) কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন।

দিন দিন একাত্তবাদের সংখ্যা বাড়তে থাকল। এরপর কাবা শরীফ নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ করেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। হজরত ইব্রাহিম (আ.) হজরত ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) কাবা ঘর সংস্কার করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে, হে আমার প্রতিপালক আমাদের উভয়কে আজ্ঞাবহ করো আমাদের বংশ থেকে একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর।

আমাদের হজের রীতি-নীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি দয়ালু হে প্রতিপালক তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন পয়গম্বর প্রেরণ করো।

অর্থাৎ ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন, তার বংশধরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর আসার মিনতি করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। যিনি তাদের কাছে তোমাদের আয়াত তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং পবিত্র করবেন নিশ্চয়ই তুমি মহাপরাক্রমশালী।

আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) এর বংশ হতে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এরপর কয়েকশো বছর গত হলো। পবিত্র কাবা ঘর সংস্কার করলো আমালিকা সম্প্রদায়।

তারপর আরো শত বছর কিংবা হাজার হাজার বছর পরে কাবা ঘর সংস্কার করেছিল মক্কার জুলহাস সম্প্রদায়। আরবের অর্থাৎ মক্কায় যে সকল সম্প্রদায়ের প্রতিপত্তি ছিল তাদের দায়িত্ব থাকত কাবা শরীফ রক্ষণাবেক্ষণের। দায়িত্ব পালনকে তারা সম্মানিত ও গর্ভের মনে করত।

শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিবাহিত হলো। কাবা শরীফ ও কাবা ঘর সংস্কার করলেন মুজার সম্প্রদায়। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আগে কাবাঘর সংস্কার করে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশ। এই কুরাইশ বংশেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
কুরাইশরা কাবা শরীফের সংস্কারে পরে হাজের আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। সকলের সম্মতিক্রমে আল্লাহর রাসূল (সা.) কাবা গৃহে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন। মহানবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) জীবিত অবস্থায় ৯-১০ হিজরিতে কাবা ঘর সংস্কার করেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ)।

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭৪ হিজরিতে কাবা শরীফ সংস্কার করেন। সুদীর্ঘ ১৪০০ বছরে কাবা ঘরের কোনো সংস্কার প্রয়োজন হয়নি। শুধুমাত্র কাবা ঘরের চারপাশে অবস্থিত মসজিদে হারামের পরিবর্ধন সংস্কার বা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাবা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজপরিবারের।

ভৌগলিক দিক দিয়ে মক্কা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া ও ইউরোপ আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত মক্কা নগরী পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মহান আল্লাহ কাবা ঘর মক্কাতেই স্থাপন করেন। পবিত্র হজ পালন করতে লাখ লাখ মুসলমান মক্কা শরীফে আগমন করেন।

জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মূল হজ অনুষ্ঠিত হয়। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহার দিন। ওইদিন কোরবানি দিতে হয়। যা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) সালামের স্মৃতি বহন করে চলেছে হাজার হাজার বছর ধরে।

জমজম কূপ ও ঠিক তেমনি হজরত ইসমাইল (আ.) ও তার মা বিবি হাজেরা (আ.) এর স্মৃতি বহন করে চলেছে। এ জমজম কূপ মহান আল্লাহর কুদরতের অপরূপ ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

হজ মুসলমানদের ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। আরবের মক্কা নগরী পবিত্র কাবাঘর হেফাজতের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই।

bottom