Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

রাসূল (সা.)-এর জ্ঞান নগরীর দরজা হজরত আলী ইবনে আবু তালিব পবিত্র কাবাঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা হজরত ফাতেমা প্রসব ব্যথার কষ্ট নিয়ে কাবার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কাবার দরজা বন্ধ থাকায় তিনি ছটফট করছিলেন। এ সময় অলৌকিকভাবে কাবার দরজা খুলে যায়। তিনি তখন পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশ করেন। হজরত আলী কাবায় জন্ম নিয়ে পরম সৌভাগ্যের অধিকারী হোন।


ভাগ্যবান ছেলে আলীর বয়স যখন দশ বছর তখন তার স্নেহশীল অভিভাবক হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর দরবার থেকে নবুয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

রাসূল করিম (সা.)-এর সাহচর্যে তিনি সর্বপ্রথম কিশোর বয়সেই ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে বিভিন্ন পরামর্শ সভায় থেকে ঐশী সবক পেতে থাকেন।

এক সময় রাসূল (সা.) আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্যে ইসলামের একত্ববাদের দাওয়াত দিয়ে বললেন, তোমাদের থেকে আমার সাহায্য ও সহায়তাকারী হিসেবে কে আমার সহযোগী হতে চাও?

কেউ সাহস দেখাল না, সবাই নীরব রইল। একমাত্র শেরে খোদা আলীই সহযোগী হতে চাইল। নবী করিম (সা.) একই কথা তিনবার উচ্চারণ করলেন। তিনবারই শেরে খোদা কিশোর আলী মুরতাজার লাব্বাইক ধ্বনিত হল। আর ওই সভাতেই নবী করিম (সা.) বললেন, তুমি আমার ভাই ও আমার উত্তরাধিকারী। শুধু দুনিয়াতে নয়, আখিরাতের জন্যও।

আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিরক ও কুফরের বিরুদ্ধে জিহাদ ছিল রাসূল (সা.)-এর জীবনের একটি বৈশিষ্ট্য। আর এই জাহেরি জিহাদে মাওলা আলী হচ্ছেন আল্লাহর দ্বীনের বিজয় ছিনিয়ে আনা যোদ্ধা।

হিজরি ২য় সনে কাফেরদের সঙ্গে সর্বপ্রথম যুদ্ধ হয় বদর প্রান্তরে। এ যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী হন। ৭০ জন কাফের নিহত হয় এবং বন্দি হয় ৭০ জন। যুদ্ধে শেরে খোদা কাফেরদের ছত্রভঙ্গ করে দিলেন। একাই ৩৬ কাফেরকে হত্যা করেন। তখন ঐশী বাণী আসে- লা ফাতাহ ইল্লা আলী লা সাইফ ইল্লা জুলফিকার (অর্থাৎ আলীর মতো কোনো বীর নেই আর আলীর তলোয়ারের সমান কোনো তলোয়ার নেই)।

ওহুদের প্রান্তরে মুশরিকদের সঙ্গে মুসলমানদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ২২-৩০ জন কাফের নিহত হয়। হজরত আলী ১২ জন কাফেরকে হত্যা করেন। মুসলমানরা রাসূলে কারিম (সা.)-এর নির্দেশ অমান্য করে গনিমতের মাল সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় কাফেররা আবার মুসলমানদের ওপর আক্রমণ চালায়।

ফলে মুসলিম সেনা দল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় রাসূল (সা.)-এর চক্ষু মোবারক আহত হল, দন্ত মোবারক শহীদ হল। এ যুদ্ধে হজরত আলীর তলোয়ার ভেঙে যাওয়ায় রাসূল (সা.) তাকে জুলফিকার নামক তরবারি দান করেন। তারপর হজরত আলী বীরবিক্রমে যুদ্ধ করেন।

এরপর খন্দকের যুদ্ধ হয়। বিধর্মীদের সব গোত্রের লোক মিলিতভাবে মদিনা আক্রমণ করে। হজরত আলী তাদের সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করলেন। তাদের নেতা আব্দুদ একক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহ্বান জানাল।

হজরত আলী এগিয়ে গেলেন আরবদের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা উমার ইবনে আব্দুদকে জমিনে ফেলে শিরñেদ করার জন্য তার বুকে চেপে বসলেন। তখন উমার ইবনে আব্দুদ রাগের চোটে হজরত আলীর মুখে থু থু ছুড়ল। হজরত আলী উঠে দাঁড়ালেন এবং দু’তিন পা হেঁটে হেঁটে যখন শান্ত হলেন তখন আবার তার বুকে চেপে বসলেন।

উমার ইবনে আব্দুদ হজরত আলীর আচরণে আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল; আগেরবার আমার গলা কাটতে এসে উঠে গেলে কেন? হজরত আলী বললেন, তুমি যখন আমার মুখে থু থু দিলে তখন আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম।

এই রাগ ছিল আমার ব্যক্তিগত। তখন যদি তোমাকে শিরশ্ছেদ করতাম তাহলে তাতে আমার ব্যক্তিগত ক্রোধেরও প্রকাশ হতো। কিন্তু আমি চাই আল্লাহর শত্রুকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হত্যা করতে। মাওলা আলী যা করতেন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই করতেন। এ জন্য তাকে আল মুরতাজা বলা হয়।

এরপর খাইবারের বিখ্যাত যুদ্ধ হয়। খাইবার ছিল ইহুদিদের দুর্গঘেরা শক্তিশালী যুদ্ধঘাঁটি। এ দুর্গ থেকেই পরিচালিত হতো ইসলামবিরোধী কর্মতৎপরতা।

তাই রাসূল (সা.) ইয়াহুদি চক্রান্ত থেকে শঙ্কামুক্ত হওয়ার জন্য খাইবার জয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রথমে হজরত আবু বকর ও পরে হজরত উমর এই দুর্গ জয়ে গেলেন। কিন্তু তারা বিফল হয়ে ফিরে আসেন।

তখন সৈন্যদের উদ্দেশে রাসূল (সা.) ঘোষণা করেন, ’আগামীকাল এমন এক বীরের হস্তে পতাকা দেব- যে আল্লাহ ও রসূলের প্রিয় এবং খাইবার বিজয় তার হাতেই সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় দিন তিনি হজরত আলীকে ডাকলেন এবং দলের পতাকা তার হাতে দিয়ে বললেন, ’হে আলী; যাও বিনা জয়ে ফেরত আসবে না’।

হজরত আলী একাই যুদ্ধ করে ইয়াহুদিদের সর্দার মারহাবকে কেটে তার ভাই হারেজকে হত্যা করেন। খাইবারের বিখ্যাত কেল্লা কামুস দখলে এলে বিজয়ী হয়ে রাসূলে করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন। এ জন্য মহানবী (সা.) তাকে ’আসাদুল্লাহ’ উপাধি দিয়ে বিখ্যাত জুলফিকার পুরস্কার প্রদান করেন।

রাসূল (সা.)-এর জিহাদ ছিল শিরক ও কুফরের বিরুদ্ধে। আল্লাহ পাক বলেন, ’হে নবী! তুমি কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের ওপর কঠোর হও’।

এ কালের মানুষ জাগতিক মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে আদেশ-নিষেধের মিশ্রণ ঘটিয়ে ধর্মকে কলুষিত করছে। মানবিক ক্ষয় এবং নৈরাজ্যের শিকড় মজবুত হয়েছে সমাজে। এত কষ্টে প্রচারিত ইসলাম বিষণ্ণতায় ভুগছে।

আজ বড় প্রয়োজন আলীর মতো সাহসী কোনো ইমামের। যিনি প্রেম ও প্রজ্ঞায় শান্তির ধর্ম ইসলামের দিকে সমাজকে ফিরিয়ে আনবেন।

bottom