Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

*গতকাল দুই পক্ষের ১১ জন করে ছোট পরিসরে সংলাপ হয় *সংলাপে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েঐক্যফ্রন্টের রূপরেখা *সংবিধান-সংক্রান্ত বিষয়ে ছাড়দেয়নি সরকারপক্ষ *নির্বাচন পেছাবে না, তবে আলোচনা হতে পারে প্রথম দফায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২০ জন আর ক্ষমতাসীন জোট ২৩ জনের দল নিয়ে সংলাপে অংশ নেয়। গতকাল বুধবার দুই পক্ষের ১১ জন করে ছোট পরিসরে সংলাপ হয়।


Hostens.com - A home for your website

এবার ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে। প্রায় তিন ঘণ্টার সংলাপে সংবিধান-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ছাড় আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। তবে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।

গতকাল সংলাপের শুরুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে চার দফা দাবিসংবলিত লিখিত বক্তব্য সরবরাহ করা হয়। এতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ১১ জনের নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলা হয়। সংলাপ শেষে প্রথম আলোর দুই প্রতিবেদক দুই পক্ষের চার নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। তাঁরা সংলাপের ভেতরে আলোচনার খুঁটিনাটি জানিয়েছেন।

সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, আগের সংলাপে এসে সাত দফা দাবি জানিয়েছিলাম, বিস্তারিত আলাপ করেছি। এবার এসেছি সমাধান সম্পর্কে জানতে।

এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় জনসভা করার জন্য অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের বিপরীতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমকে আহ্বান জানান। রেজাউল করিম বলেন, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রায় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আইনগত ও সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আমরা এখানে সমঝোতা করলাম। কেউ যদি আদালতে রিট করে বলে, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বেআইনি। তাহলে আরও আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। যে সরকার নির্বাচিত হবে, সেটিও অবৈধ হয়ে যাবে।

এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, এভাবে বললে তো আর সমঝোতার পথ থাকে না। এখানে তো এসেছি একটা সমঝোতার জন্য। এমন প্রশ্ন তুললে ১৯৯১ সালের নির্বাচনকালীন সরকার, ২০০৭-এর সরকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। প্রয়োজন সংকটের সমাধান।

আ স ম আবদুর রব বলেন, সাংবিধানিক খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলতে নয়, সমঝোতার জন্য এখানে আসা। আগে একমতে আসতে হবে, সবাই সংকটের সমাধান চাই কি না।

এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেজাউল করিমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে যে কিছু করবেন, তার সমাধান কোথায়?

এরপর সরকারি দলের একাধিক নেতা অশুভ শক্তির ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেন। প্রসঙ্গ বদলে যায়। ফলে এ বিষয়ে আর আলোচনা এগোয়নি। তখন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অন্য দাবিগুলো নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গ

নির্বাচনে সমতল ভূমি সৃষ্টির লক্ষ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গটি লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কোথায় আছে যে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাহী বিভাগ খালাস দিতে পারে? আদালত নিজস্ব গতিতে চলবেন। আর সরকার তো এখানে কেউ না। দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়। যদি তারা বাধা দেয় তাহলে এক ব্যাপার। আর বাধা না দিলে আরেক ব্যাপার। তবে যদি আমাদের কিছু করণীয় থাকে, আমরা দেখব।

জবাবে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছিল। কিন্তু দেড় মাস ধরে নানা আইনি জটিলতা তৈরি করে তাঁর জামিন বাতিল করা হয়েছে। পরে তাঁর সাজার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনের সুযোগ ছিল। রাজনৈতিকভাবেই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে, এখনো এটাকে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করে তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করা যায়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১ সেপ্টেম্বরের পর কোনো সংঘাত-সহিংসতা হয়নি। এরপর যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো একেবারে অসত্য, গায়েবি ও ভুয়া মামলা। তখন প্রধানমন্ত্রী তালিকা চাইলে তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তালিকাটি আইনমন্ত্রীকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার-হয়রানি হবে না বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ব্যক্তিগত অপরাধের মামলা বিবেচনা করা হবে না বলে জানান তিনি।

এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ হত্যা করে, ধর্ষণ করে তাহলে সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতা হলেও আমরা রাজনৈতিক মামলা বলব না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ফাঁস হওয়া সাম্প্রতিক ফোনালাপের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরী নারী নির্যাতনের ভুয়া মামলা করার এবং ৫০টা করে টিম গঠন করে বিভিন্ন রকম হামলা করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়। এটা রাজনৈতিক ঘটনা কি না, জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

তখন ড. কামাল হোসেন জাফরুল্লাহর প্রসঙ্গ উল্লেখ না করে বলেন, আমরা কোনো অপরাধকেই সমর্থন করি না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবারও জাফরুল্লার ঘটনার বিষয়ে বলেন, এ ক্ষেত্রে যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সেটাতে আবার বলতে আসবেন না যে এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।

কামাল হোসেন বলেন, আমরা কি বাইরে গিয়ে আপনার রেফারেন্স দিয়ে বলব যে আর গ্রেপ্তার-হয়রানি হবে না? তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, আপনারা বলেন। আমিও বলে দেব। কোনো রকম রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও গ্রেপ্তার যাতে না করে, তা প্রশাসনিকভাবে দেখব।

নেতাদের নিয়ে টিপ্পনী, কিছুটা তর্কবিতর্ক

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে মাহমুদুর রহমান মান্নার কড়া বক্তৃতার বিষয়টি উল্লেখ না করে তাঁকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু কথা ওঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাহমুদুর রহমান মান্না আমার বিরুদ্ধে কী সাংঘাতিক বক্তৃতা দিল। বক্তৃতা দেওয়া ভালো। এ সময় মান্না বলেন, বক্তৃতা তো রাজনীতির অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও দাও, তুমি আরও বক্তৃতা দাও।

প্রধানমন্ত্রী আ স ম রবকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি চৌমুহনী কলেজের ভিপি ছিলেন। আমি তখন ইডেন কলেজের ভিপি। আমরা সমসাময়িক। আমার এখানেও তো ছিলেন, মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। একেক সময় একেক কথা বলেন। জবাবে রব কিছু বলেননি।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভারতে গিয়েছিলে। প্রতিবাদ করেছিলে, এটা সত্য। আমি তো তোমাকে এনে ডাকসুর ভিপি করলাম। চলে গেলা রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে বাকশাল করে আমার বিরুদ্ধে। আবার ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট করলাম, এমপি বানালাম। তুমি তো এদিক-ওদিক ঘুরো। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করো, কিচ্ছু পাবে না, জীবনে কিছু হতে পারবা না।

এস এম আকরামকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি তো আওয়ামী লীগ করতেন। আজ ওই দিকে বসলেন কেন? এ সময় আকরাম বলেন, আমি মান্না সাহেবের দলে আছি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ও, আপনি দল পাল্টাইছেন। পাল্টান, খুব ভালো।

মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি এক-এগারোর সময় জেলে ছিলেন। আবারও জেলে যেতে চান? তখন মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা একটু স্পেস চাই। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো স্পেস দেওয়া যাবে না যে অন্ধকারের লোকেরা আবার আসতে পারে। অন্ধকারের লোকদের আমি আসতে দেব না। আরেকটা জিনিস মনে রাখবেন, সহিংসতা করবেন না। সহিংসতা কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সেটা কিন্তু ২০১৩-১৪ সালে দেখিয়েছি।

এ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং মওদুদ আহমদের মধ্যে কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়। মওদুদ বলেন, আমি বাড়িতে গেছি, ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয় না। ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনি আমাকে লক্ষ্য করে বক্তৃতা করেছেন। মওদুদ বলেন, আমি তো কারও নাম বলিনি। তাহলে উনি ধরে নিলেন কেন উনাকে বলছি? এ নিয়ে কিছুক্ষণ তর্কবিতর্ক হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী থামিয়ে দেন।

ওবায়দুল কাদের সংলাপের একপর্যায়ে বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা কিসের নির্বাচন চান। আপনারা তো দুর্নীতিবাজকে দলে রাখার জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছেন। এ সময় মির্জা ফখরুল কিছুটা ক্ষোভের সুরে বলেন, এটা আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা কোন বিধান রাখব, কোনটা রাখব না, এটা আমাদের বিষয়। আমাদের দলের ভেতর আমরা কী করব, সেটার ভেতরে আপনি ঢুকতে চান? কাদের বলেন, ঢুকতে চাই না।

নির্বাচন পেছাবে না, আলোচনা হতে পারে

শেষের দিকে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, তাঁরা নির্বাচনের পক্ষে। তবে আরও আলোচনা হওয়া দরকার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় আর নেই। এভাবে বসাবসি হবে না। তবে কোনো সমস্যা থাকলেই আইসেন, শুনব। তখন কামাল হোসেন বলেন, তফসিলটা একটু পিছিয়ে দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা আমার এখতিয়ার না। আর তফসিল পেছানোর পক্ষে আমি না। পিছিয়ে দেওয়ার মাঝখানে অন্ধকারের শক্তি। তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় আসতে চাইবে। তফসিল ঘোষণার পরও আলোচনা হতে পারে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো দিনই হবে না। যার হাতে অস্ত্র, তার হাতেই বিচারিক ক্ষমতা? তাহলে আর কী থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী থাকবে। বেসামরিক প্রশাসন যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেখানে তারা যাবে।

সংলাপ শেষে মওদুদ আহমদ ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিছুটা সময় আলাপ করেন। একপর্যায়ে ফখরুল ইসলাম জেলে থাকা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয় তোলেন। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে প্রধানমন্ত্রী সায় দেন।

মওদুদ আহমদ তাঁর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাড়িটা নেওয়া হতো না। আপনি জালিয়াতি করতে গেলেন কেন? মওদুদ বলেন, আদালত বলেছেন বাড়ি সরকারের না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু হতো না। বাড়িটা যদি আপনি জসীমউদ্‌দীনের মেয়ের নামে, হাসনা মওদুদের নামে লিখে দিতেন। কিন্তু আপনি নিয়ে আবার দিয়েছেন আপনার ভাইয়ের নামে। এ পর্যায়ে মওদুদ ঠাট্টার ছলে বলেন, তাহলে আমি ওনার নামে (হাসনা মওদুদ) করে দেব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর বিশ্বাস করা যায় না।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom