Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

কাতার ফাউন্ডেশন স্টেডিয়ামে এখনো কোনো ভক্ত, সমর্থক বা খেলোয়াড় নেই। কোনো ঘাস নেই। তবে দুর্দান্ত পিচ। রীতিমতো ঈর্ষণীয়। দুই বছর আগেও এই মাঠ খানাখন্দে ভরা ছিল। বর্তমানে বিশালাকৃতির ক্রেনের সাহায্যে অসংখ্য শ্রমিক মাঠে কম্প্রেশন রিং বসানোর কাজ করছেন। রিংয়ের ওপর দাঁড়াবে এই স্টেডিয়ামের ৪ হাজার ৫০০ টন ওজনের ছাদ।


কাতারে মরুভূমির আবহাওয়া। এখানে প্রচণ্ড গরম। এ কারণে রাষ্ট্রীয় একটি ল্যাবরেটরি ঘাস নিয়ে গবেষণা করছে। যাতে মাঠে ঘাস জন্মাতে পারে।

কাতারের মতো ছোট্ট একটি দেশে এই বিপুল কর্মযজ্ঞের কারণ কী? এত এত ভবন, স্টেডিয়াম নির্মাণেরই–বা কারণ কী?

আছে, অনেক বড় কারণ আছে। বিশ্বের কেউ কেউ জেনে গেছেন এই কারণ। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতারে। ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে কাতার। এ কারণেই এত স্টেডিয়াম ও ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।

কাতারের গরম আবহাওয়ায় জুন-জুলাইয়ে খেলতে আপত্তি ছিল বিশ্বের অনেক শীর্ষ ফুটবল খেলুড়ে দেশেরই। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা অবশ্য অনেক আগেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল কাতার বিশ্বকাপের সময়সূচি শীতকালকে কেন্দ্র করে প্রণয়নের। ফিফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কাতার বিশ্বকাপের আয়োজন করা হবে।কাতারের রাজধানী দোহার সবখানেই উন্নয়নের ছোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশ কিছু ঝক্কিও পোহাতে হচ্ছে দেশটিকে। কারণ, বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। যখন দর্শনার্থীরা কাতারে আসবেন, তখনো অনেক নতুন সড়ক প্রস্তুত হয়ে যাবে। কিন্তু এই নতুন সড়কগুলো শুরুতে গুগল ম্যাপে পাওয়া যাবে না। এ কারণে ভিনদেশি দর্শকেরা দেশটি ভ্রমণে ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারেন।

দেশটিতে আগের অপ্রশস্ত চত্বরগুলো আর নেই। এখন সেসব স্থানে এলিভেটেড ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশটিতে পুরোদমে চলছে দোহা মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো এই মেট্রোরেলের প্রথম লাইনে চলাচল শুরু হতে পারে।

কাতার আশা করছে, বিশ্বকাপের সময় প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ ফুটবলভক্ত দেশটিতে আসবেন। এঁদের মধ্যে কেউ হয়তো ক্রুজশিপে ঘুমাবেন, কেউ কেউ মরুভূমিতে ক্যাম্প করতে পারেন। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নতুন হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হোটেলে দর্শনার্থীদের জন্য প্রায় এক লাখ নতুন রুম রয়েছে।

বিশ্বকাপের আয়োজক আগের দেশগুলোর মতো ঠিক এত বড় নয় কাতার। এরপরও ফুটবলভক্তরা সব কটি খেলা দেখতে চাইবেন। এক স্টেডিয়াম থেকে আরেক স্টেডিয়াম বা থাকার জায়গা থেকে স্টেডিয়ামে যাতায়াতে ভ্রমণ সময়ও কমাতে চাইবে দলগুলো। এর অর্থ, থাকার জায়গার কাছাকাছি স্টেডিয়াম হওয়া ভালো। এখনো পরিষ্কার নয় যে খেলা শেষে নতুন সাতটি স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ কী? অলিম্পিকের আয়োজক দেশগুলোকে এই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

কাতারে সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সৃষ্টি হবে, তা হলো বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় নানা দেশ থেকে ফুটবলভক্তরা আসবেন। খেলার অবসরে এই ভিনদেশি ভক্তরা কী করে সময় কাটাবেন! এখানে তেমন কোনো বৈচিত্র্য নেই। একটি সমুদ্রসৈকত ও জাদুঘর আছে কেবল। কিন্তু চলতি বছর হওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে ছিল নানা বৈচিত্র্য।এ বিষয়ে কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থা সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসির (এসসি) সেক্রেটারি জেনারেল হাসান আল-থাওয়াদি বলেন, ’বিশ্বকাপ নিজেই নানাবিধ আনন্দ নিয়ে আসে।’ তিনি বলেন, ফুটবলভক্তরা নিজেরাই নিজেদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। মস্কোতে তাঁরা রেড স্কয়ারে সমবেত হতেন। কিন্তু কাতারে প্রধান ফ্যান জোন হবে একটি পার্কে। এখানে প্রকাশ্যে অ্যালকোহল নেওয়া নিষিদ্ধ। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অ্যালকোহল নেওয়া যাবে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২২ সালে আরব বিশ্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজিত হতে যাচ্ছে। তবে এখনো দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংকট কাটেনি। ২০১৭ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এই চার দেশ কাতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই অবরোধ এখনো চলছে। কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করে। এ ছাড়া আরব শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলা আল-জাজিরাকেও সমর্থন করে। তবে কাতার বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এই অবরোধের কারণে ওই চার দেশের ফুটবলভক্তরা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, কাতার বিশ্বকাপ থেকেই ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল খেলানোর পরিকল্পনা তাঁরা করছেন।

যদি এটা হয়, তাহলে সমাগম হবে অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে কাতার এই বিশ্বকাপের সমাগম প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অনেক দেশের সঙ্গে তাদের এখন সুসম্পর্ক নেই। শুরুতে আয়োজক সংগঠনের প্রত্যাশা ছিল, এই বিশ্বকাপ আরব দেশগুলোকে আবার এক করতে পারে।

bottom