Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে একজন চিকিৎসক দিয়ে। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী এ উপজেলা মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী এলাকা। গত সোমবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন দেখা যায়, বহির্বিভাগে কর্মরত একমাত্র চিকিৎসক বখতিয়ার আল মামুনের কক্ষের ভেতরে ও বাইরে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।


নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও সোমবার ১০টার আগে কেউই হাসপাতালে আসেনি। ৫০ শয্যার আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও ২১টি পদই শূন্য।

পদায়নকৃত পাঁচজনের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ডা. একেএম মনিরুল ইসলাম ব্যস্ত থাকেন প্রশাসনিক কাজে। অন্য চারজনের মধ্যে ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক আট বছর এবং ডা. সোমা হালদার তিন বছর ধরে অনুপস্থিত আছেন। ছুটি ছাড়াই তারা বছরের পর বছর আসছেন না হাসপাতালে। অনুপস্থিতির সুস্পষ্ট কারণ জানা না গেলেও অননুমোদিত অনুপস্থিতির জন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে বলে জানান ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও। অপর চিকিৎসক ডেন্টাল সার্জন ডা. মনন কুমার দে দাঁতের সমস্যা ছাড়া কোনো রোগী দেখেন না। ফলে অন্য রোগের শত শত রোগীকে একাই সামলাতে হয় ডা. বখতিয়ারকে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক নেই।

সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃবিভাগে ভর্তি আছেন শিশুসহ ৪০ রোগী। তাদের মধ্যে একজন সাইফুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ফলে অনেক রোগীই যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের খাবারের মানও নিম্ন।

এক কর্মচারী জানান, সার্জারি ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকের অভাবে দুটি অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার হয় না। ফলে অপারেশন থিয়েটার দুটির মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অকেজো।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার পশ্চিমাংশ নাঠৈ, উজিরপুরের উত্তরাংশ কারফা-কুড়ালিয়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বাংশের নাগরা-বান্দ্যাবাড়িসহ উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ আগৈলঝাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।

সার্বিক বিষয়ে ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও ডা. একেএম মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।

ছয় চিকিৎসক চালাচ্ছেন গৌরনদী হাসপাতাল : গৌরনদী প্রতিনিধি খন্দকার মনিরুজ্জামান জানান, মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা। সনোলজিস্ট না থাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি রোগীদের কোনো উপকারে আসছে না। অ্যানেসথেশিস্ট না থাকায় অপারেশন থিয়েটার অঘোষিতভাবে বন্ধ রয়েছে।

৫০ শয্যার গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২১টি। বিপরীতে পদায়ন আছে আটজনের, যার মধ্যে একজন চিকিৎসক বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপরজন একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে আছেন।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে একটানা দুই ঘণ্টা সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে দেখা গেছে, ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও ডা. ফতে আলী হাসান ছাড়া বাকি পাঁচজন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে এসে স্বাক্ষরও করেছেন হাজিরা খাতায়। কথা হয় বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগী ঝরনা বেগমের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসক কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর মেলে সেবা। অপর এক রোগী জাকিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, চোখের ডাক্তার না থাকায় উপজেলার রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ইউএইচএফপিও ডা. ফতে আলী হাসান সাত দিনের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন।

bottom