Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

রাজধানীর উত্তরখানের চাপানেরটেকের ৩৪/ডি নম্বর বাসার দরজা-জানালা বন্ধ। ভেতর থেকে বীভৎস পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ রোববার রাতে সেই বাসায় যায়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রীতিমতো আঁতকে ওঠেন তারা। তিনজনের মৃতদেহ পড়ে আছে এলোমেলোভাবে। পাশেই মোবাইল ফোনের নিচে একটুকরা কাগজ। তাতে লেখা- আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য ও আমাদের আত্মীয়-স্বজন দায়ী।


Hostens.com - A home for your website

তিনটি লাশের পরিচয় যখন জানা গেল, তখন অবাক হন পুলিশ সদস্যরা। তারা একই পরিবারের! মা জাহানারা বেগম মুক্তা (৪৮), ছেলে কাজী মুহিব হাসান রেসি (২৮) এবং মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিম (২০)।

প্রাথমিক আলামত দেখে পুলিশ ধারণা করছে, মা ও বোনকে হত্যার পর কাজী মুহিব হাসান আত্মহত্যা করতে পারেন। তিনি গত ৩ মে অনুষ্ঠিত ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছিলেন মুহিব।

উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, মা ও মেয়ের লাশ পড়ে ছিল খাটের ওপর। ছেলের লাশ ছিল মেঝেতে। পচন ধরায় হত্যা বা আত্মহত্যার ধরন বোঝা যায়নি। লাশ উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা বাসা থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।

ওসি জানান, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন মা জাহানারা গৃহিণী ছিলেন। তাসফিয়া ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। পড়ালেখার পাশাপাশি সংসার চালাতেন ছেলে মুহিব হাসান। তার বাবা ইকবাল হাসান কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, বাসাটির দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। ছিটকিনি ভেঙে ভেতরে তিনজনের লাশ পাওয়া যায়। মুহিবের লাশের পাশেই পড়ে ছিল একটি মোবাইল ফোন। এর নিচেই একটুকরো কাগজ পাওয়া যায়। তাতে তাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য এবং আত্মীয়-স্বজনকে দায়ী করা হয়েছে। পুরো বিষয়টিই তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে ওই বাসাটির দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। ভেতরে কারও সাড়াশব্দও পাননি প্রতিবেশীরা। রোববার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের আরেক কর্মকর্তা বলেন, তিনজন তো আর এক সঙ্গে আত্মহত্যা করতে পারেন না। আমরা ধারণা করছি, হতাশা থেকে মুহিব তার মা ও বোনকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তিনটি লাশেই পচন ধরেছে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা জানিয়েছেন, চলতি মাসে ওই পরিবারটি ৮ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় বাসাটিতে উঠেছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। একতলা ওই বাসার পাশেই আরেকটি কক্ষে তিনজন ব্যাচেলর ভাড়া থাকেন।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom