Foto

Please Share If You Like This News


Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

আলজেরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতেফলিকা নিজের পঞ্চম মেয়াদের জন্য নির্বাচন করছেন। অথচ তাকে তার সমালোচকরা বলেন 'জীবন্মৃত'।


Hostens.com - A home for your website

আব্দেল আজিজ বুতেফলিকার বয়স এখন ৮২ বছর কিন্তু তিনি অবসর গ্রহণে ইচ্ছুক নন।যদিও ২০১৩ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি কার্যত পক্ষাঘাতগ্রস্ত।

এরপর থেকেই তাকে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পঞ্চম মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও নেমেছেন তিনি।আসলে তাকে নামানো হয়েছে।আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে ১৮ই এপ্রিলের ভোটে তিনি জিতেও যেতে পারেন।কারণ, দেশটিতে নির্বাচনের নামে যা হয় তা আসলে তামাশা।বুতেফলিকা আক্ষরিক অর্থেই একজন অক্ষম মানুষ।ক্ষমতা আসলে কুক্ষিত করে আছে সেনাবাহিনী এবং তাদেরই মনোনীত একদল অনির্বাচিত ব্যক্তি।তারা দেশটির সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ করে দিয়েছে।এভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিরা গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে থাকলেও বলা হচ্ছে এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।বুতেফলিকার মত একজন ব্যক্তি সব দিক থেকে অক্ষম বা জীবন্ত লাশ হওয়ার পরও তাকে সামনে রেখেই শাসনক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি কুচক্রি মহল।যদিও এর বিরুদ্ধে ক্ষোভও দেখা যাচ্ছে অনেক।কিন্তু সামরিক জান্তার ছত্রছায়ায় থাকায় তারা বহাল আছে নিরাপদে।

সারাদেশে লাখ লাখ মানুষ বিশেষ করে তরুণরা গত শুক্রবারও রাস্তায় নেমে এসেছিলো অসুস্থ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিতে।

আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পর এটাকেই সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বলে মনে করা হচ্ছে এবং রাজধানী আলজিয়ার্সে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

যদিও তাদের এসব প্রতিবাদ প্রেসিডেন্ট বুতেফলিকার কানে যায়নি।

তিনি প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেননি কারণ তিন সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দ্য লিভিং ডেড বা জীবন্মৃত

আব্দেল আজিজ বুতেফলিকার চরম সমালোচকরা তাকে ’দ্য লিভিং ডেড’ বা জীবন্ত লাশ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

উত্তর আফ্রিকা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা মাস বলেন বিরোধীরা তাকে ’দা ফ্রেম’ও বলে থাকেন। কারণ অসুস্থতা ও কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারা। এমনকি প্রার্থিতা ঘোষণার দিনসহ অনেক অনুষ্ঠানেই তার বাধাই করা ছবি রাখা হয়েছিলো তার নিজের উপস্থিতির পরিবর্তে।

"এমনকি তার অবস্থা নিয়ে এতোই অনিশ্চয়তা যে গত সোমবার প্যারিসে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে একটি বিবৃতি দিতে হয়েছিলো যে প্রেসিডেন্ট এখনো জীবিত আছেন"।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট যদি তার প্রাত্যহিক কাজ করতে না পারেন তার তার দায়িত্বে কে ?

রক্ত ও মৃত্যুর দশক: বুতেফলিকা কিভাবে ক্ষমতায় আসেন

আলজেরিয়াকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবলা হলেও দেশটি পরিচালিত হয় আসলে সেনা সমর্থিত অনির্বাচিত ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা অনুযায়ী।

একদল সামরিক কর্মকর্তা আর অনির্বাচিত ব্যবসায়ীরা দেশ চালানোর ক্ষেত্রে বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এবং তারাই রাজত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যখন অসুস্থ প্রেসিডেন্ট অবস্থান নিয়ে আছেন এক কোনায় - বলছিলেন বিবিসির মোহামেদ ইয়াহিয়া।

সাংবাদিক মার্ক মারজাইনদাস আলজেরিয়ায় বসবাস ও কাজ করতেন ৯০’এর দশকে।

তার মতে, "৯০ এর দশকে গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে উত্থান হয়েছিলো প্রেসিডেন্ট বুতেফলিকার। এরপর থেকেই ক্ষমতা আসলে রাজনীতিক ও সামরিক একটি যৌথ মাফিয়া চক্রের কাছে চলে যায়"।

তারাই এরপর মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হয়।

আজকের আলজেরিয়াকে বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ৯০ এর দশকে কি ঘটেছিলো সেদিকে।

দেশটি দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিলো।

এরপর ১৯৯০ সালে দেশটিতে প্রথম একটি অবাধ নির্বাচন হয় যাতে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায় এবং দেশটিতে গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়।কিন্তু নির্বাচনে ইসলামপন্থীরা জয়ী হলে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করে।তারা জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে সামরিক শাসন জারি করে এবং ইসলামপন্থীদের গণহারে ধরপাকড় ও দমন শুরু করে।এরফলে দেশটি আবার গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে এবং তা প্রায় এক দশক ধরে চলতে থাকে।এই এক দশকে প্রায় দু লাখ মানুষ নিহত হয়।

সাংবাদিক মার্ক মারজাইনদাসের মতে সেটি ছিলো আলজেরিয়ার সবচেয়ে অন্ধকার সময়।

পরে ১৯৯৯ সালে আব্দেল আজিজ বুতেফলিকা ক্ষমতায় আসেন।

কিন্তু এখন তিনি দুর্বল, আর এ সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নানা দল ও উপদল।

অন্যদিকে তার পুন:নির্বাচনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে তরুণরা।

তারা শ্লোগান দিচ্ছে ’বাই বাই বুতেফলিকা’।

স্থানীয় মিডিয়ার মতে গত ত্রিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে যাদের নেতৃত্বে তারা আসলে ছাত্র ও বিভিন্ন খাতের তরুণরা।

বয়সে তরুণ এ দেশটির জনসংখ্যা চার কোটির সামান্য বেশি।

এর মধ্যেই রোববার রাতে প্রেসিডেন্টের একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

যেখানে প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে বলা হয়, "প্রতিবাদকারীদের গভীর কান্না আমি শুনেছি।"

তার নামে অঙ্গীকার করা হয় যে, পুননির্বাচিত হলে রাজনৈতিক সংস্কার ও আরেকটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের জন্য তিনি একটি কনফারেন্সের আয়োজন করবেন।

তবে নতুন প্রজন্মের কাছে এ ধরনের ভারী কথাবার্তার কতটা মূল্য আছে সেটি সময়ই বলে দেবে।

Report by - //dailysurma.com

Facebook Comments

bottom