Foto

Please Share If You Like This News

Buffer Digg Facebook Google LinkedIn Pinterest Print Reddit StumbleUpon Tumblr Twitter VK Yummly

এবারের বিপিএল’র ফাইনালে ফের আঙুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব আল হাসান। সেই কারণে ছিটকে পড়েন নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ থেকে। এক মাসেরও বেশি সময় থাকেন মাঠের বাইরে। অবশেষে এক সপ্তাহ আগে তিনি মাঠে নামেন অনুশীলনে।


মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা মাঠের সেন্ট্রাল উইকেটে ব্যাট হাতে অনুশীলনে ঘাম ঝরান সাকিব। বোঝাই যাচ্ছিল ভারতের আইপিএল’র জন্য নিজেকে চার-ছক্কায় প্রস্তুত করছেন ভালোভাবেই। গতকাল তার ফিট হয়ে ওঠা ও আইপিএল-এ খেলতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান আকরাম খান। তিনি জানান সাকিব এখন পুরোপুরি সুস্থ।

আইপিএল’র আগেই তিনি ভারতে যাবেন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে শুরু (আইপিএল) হওয়ার আগে তো যাবেই সাকিব। ডাক্তারের যে পরামর্শ ছিল ২০ তারিখ পর্যন্ত খেলতে পারবে না, ইদানীং তো অনুশীলন করছে সে। গত এক সপ্তাহ অনুশীলন করেছে, ব্যাটিং- বোলিংও করেছে। সে এখন ফিট আছে।’
এর আগে বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগ জানিয়েছিল ২০শে মার্চ পর্যন্ত সাকিব ম্যাচ খেলতে পারবেন না। তবে তার আগেই এই অলরাউন্ডার সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পেয়েছেন মেডিকেল বিভাগের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটও। শুধু তাই নয়, বিসিবি থেকে আইপিএল-এ খেলতে যাওয়ার জন্য অনাপত্তিপত্রও (এনওসি) পেয়ে গেছেন। ২৩শে মার্চ শুরু হচ্ছে এবারের আইপিএল’র আসর। তার আগেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন তিনি। যদিও সাকিব ফিট হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবি’র প্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন তারাই ঢাকা লীগে সাকিবকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। তবে আইপিএল’র জন্য তার অনাপত্তি পত্র নিয়ে আকরাম খান বলেন, ’অনাপত্তিপত্র ইতিমধ্যে দেয়া আছে ক্রিকেট বোর্ড থেকে। সে আইপিএল খেলবে এটা তো জানাই আছে।’
ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আর ২ মাস বাকি। তার আগে সাকিববে আইপিএল-এ খেলতে দিয়ে ঝুঁকি নেয়া হচ্ছে কি না তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের আগে মে মাসেই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। আর বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু হবে ২০শে এপ্রিল থেকে। যদি সাকিব আইপিএল-এ খেলেন তাহলে থাকতে পারবেন না প্রস্তুতিতেও। তার চেয়ে বড় বিষয় আইপিএল’র মতো প্রতিযোগিতামূলক আসরে সাকিব থাকবেন ঝুঁকিতে। তাই আইপিএল’র ম্যাচ কম খেলানো হবে কি না তা নিয়ে আছে প্রশ্ন। বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান বলেন, ’না, আমরা এমন কিছু চিন্তা করিনি। ওর সাথেও আলাপ করবো যাওয়ার আগে, যাতে ফিটনেস নিয়ে ঝুঁকি না নেয়। ফিট না হলে খেলবে না, এইসব যেন বলে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। আমি নিশ্চিত সে নিজেরটা নিজে খুব ভালো বোঝে। সে নিজে খুবই যত্ন করছে, একমাস দেখলাম। লম্বা একটা ক্যারিয়ারে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। সম্প্রতি কিছু ব্যথা পেয়েছে।
গেল বছর শুরুতেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হাতের বুড়ো আঙুলে চোট পেয়েছিলেন সাকিব। সে কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। তারপর থেকে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থেকে আইপিএল’র আগে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেখানে খেলে এসে যান আফগানদের বিপক্ষে ভারতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। তার নেতৃত্বে দল তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরে আসে। এসে তিনি থাকেন বিশ্রামে। ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপই খেলতে যাওয়ার কথা ছিল না। তবে বিসিবি সভাপতির অনুরোধে সেখানে যান। তবে সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের ফাইনালের আগেই দেশে ফিরে আসেন ইনজুরিগ্রস্ত সাকিব আল হাসান। পুরনো ইনজুরি আক্রান্ত আঙুলে প্রায় নাকি পচনই ধরেছিল। তার ভাষ্য মতে এমন অবস্থা হয়েছিল আঙুল সারা জীবনের জন্যই ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তারপর অস্ট্রেলিয়াতে চিকিৎসা করে দেশে ফিরে আসেন। তবে ইনজুরি সেরে না ওঠায় খেলতে পারেননি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে।
যদিও গেলবছর শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিয়ে মাঠে ফিরেন তিনি। এরপর এ বছরের শুরুতেই খেলেন বিপিএল-এ। তবে ৮ই ফেব্রুয়ারি সেই ফাইনাল ম্যাচে ফের হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট পান। যার কারণে ছিটকে পড়েন নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ থেকে। ধারণা করা হচ্ছিল টেস্টে ফিরবেন। কিন্তু সেটিও হয়নি। বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন তৃতীয় টেস্টের আগে। তবে পুরোপুরি ফিট না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত তার নিউজিল্যান্ড সফরই বাতিল হয়ে যায়। শেষ টেস্টের আগে সন্ত্রাসী হামলার কারণে দেশে ফিরে আসে দল। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম ছাড়া টেস্ট দলের প্রায় সব সদস্যই এখন ঢাকা লীগে খেলতে নামবেন। তবে সাকিব সেটিও করছেন না। সরাসরি খেলতে যাবেন আইপিএল-এ। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে শঙ্কার মেঘ দানা বেঁধে আছে। আইপিএল শেষ হতে আবারো ইনজুরিতে পড়লে হয়তো বিশ্বকাপে খেলাই হবে না তার!

bottom